গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধের ভয়াবহতা ও মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র এবার স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। হলিউডের জনপ্রিয় মার্কিন অভিনেত্রী, মানবাধিকারকর্মী ও জাতিসংঘের বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি গাজায় ধ্বংসলীলার আগের ও পরের স্যাটেলাইট ছবি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে শেয়ার করে বিশ্ববাসীর বিবেককে নাড়া দিয়েছেন।
নিজের এক দীর্ঘ মানবিক পোস্টে আক্ষেপ প্রকাশ করে জোলি লিখেছেন, এখন সাধারণ মানুষ গুগল আর্থ খুললেই দেখতে পাচ্ছেন কীভাবে গাজার একের পর এক এলাকা ধুলোয় মিশে গেছে এবং বেঁচে থাকার ন্যূনতম অবকাঠামোও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
জাতিসংঘের সাবেক বিশেষ দূত জোলি তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, বর্তমানে গাজার প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার মানুষের জরুরি মানবিক সহায়তা ও ত্রাণের প্রয়োজন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে ত্রাণ ও জরুরি আশ্রয় সামগ্রী পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এখনও নানা বিধিনিষেধ, প্রতিবন্ধকতা ও দীর্ঘ বিলম্বের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
সামনে ধেয়ে আসা হাড়কাঁপানো শীতের আগেই গৃহহীন হয়ে পড়া নিরন্ন সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের বন্দোবস্ত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত হাসপাতালগুলোতে জরুরি ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহ করার জন্য বিশ্বনেতাদের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
জোলির এই মর্মস্পর্শী বার্তার মূল সুর ছিল বিশ্ববাসীর নীরবতার বিপরীতে ধ্বংসের প্রমাণ তুলে ধরা। গুগল আর্থের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন স্যাটেলাইট ইমেজে পুরো গাজাজুড়ে যে অবর্ণনীয় ধ্বংসযজ্ঞ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, তা কোনোভাবেই অস্বীকার করার উপায় নেই। বেসামরিক নিরীহ মানুষ ও শিশুদের প্রাণ বাঁচাতে দ্রুততার সঙ্গে পর্যাপ্ত মানবিক ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার যে তাগিদ তিনি দিয়েছেন, তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সহানুভূতি ও আলোড়নের সৃষ্টি করেছে।























