Dhaka ১০:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

রূপপুরে আরও দুটি নতুন ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৯:৩৮:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৯ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চলমান চরম অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার মুখে দেশের দীর্ঘমেয়াদি ও নিরবচ্ছিন্ন শক্তি নিরাপত্তা অর্জনে গেমপ্ল্যান হিসেবে আবির্ভূত হতে চলেছে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। দেশের জ্বালানি খাতের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ এই প্রকল্পটি এখন চালুর চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বাণিজ্যিকভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। রাশিয়া সরকারের আর্থিক সহায়তা এবং তাদের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে নির্মিত এই মেগা প্রকল্পের প্রথম দুটি ইউনিটের যৌথ উৎপাদন ক্ষমতা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

ভবিষ্যতের জ্বালানি চাহিদা সামাল দিতে একই লোকেশনে আরও দুটি নতুন পারমাণবিক ইউনিট বা রিঅ্যাক্টর নির্মাণের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। নতুন এই ইউনিট দুটির উৎপাদন ক্ষমতাও আগেরগুলোর সমান হলে রূপপুরের মোট সক্ষমতা দ্বিগুণ হয়ে ৪ হাজার ৮০০ মেগাওয়াটে উন্নীত হবে। এর ফলে পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ, কারিগরি রক্ষণাবেক্ষণ, দক্ষ জনবল তৈরি এবং উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের যৌথ পাঁচসালা কর্মপরিকল্পনায় এই দুটি নতুন ইউনিটের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সমীক্ষার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেনের মতে, দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহে একটি শক্তিশালী রোডম্যাপ বাস্তবায়িত হচ্ছে, যেখানে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রূপপুর প্রকল্পের চত্বরে অতিরিক্ত দুটি ইউনিট বসানোর জন্য পর্যাপ্ত ভূমি আগে থেকেই সংরক্ষিত রাখা আছে, যা সম্প্রসারণের কাজকে সহজ করবে। এই সক্ষমতা বাড়ানো গেলে দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে স্বাবলম্বন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

প্রকল্পের বিশাল কর্মযজ্ঞ ও প্রযুক্তিগত দিক: রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন ‘রোসাটম’ এই প্রকল্পের মূল প্রযুক্তি সহযোগী হিসেবে কাজ করছে এবং এর প্রকৌশল শাখা ‘অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট’ প্রধান ঠিকাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। রূপপুরে ভিভিইআর-১২০০ মডেলের দুটি অত্যাধুনিক রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হয়েছে, যার প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। প্রায় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পে রাশিয়া প্রায় ৯০ শতাংশ সহজ শর্তে ঋণ সহায়তা দিচ্ছে। এছাড়া রুশ প্রতিষ্ঠান ‘টিভিইএল’ এই কেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় পারমাণবিক জ্বালানি প্রস্তুত করেছে।

বর্তমানে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন মূলত প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা এবং আমদানিভিত্তিক তরল জ্বালানির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। তবে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে উৎপাদন হ্রাসের কারণে এলএনজি আমদানির ওপর চাপ দিন দিন বাড়ছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যবৃদ্ধি এবং ভূরাজনৈতিক সংকটের কারণে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। অন্যদিকে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র একবার চালু হলে তুলনামূলক অল্প পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহার করে দীর্ঘ সময় ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে বেজলোড বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব। ফলে রূপপুর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর দেশের নির্ভরতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।

রাশিয়ার দীর্ঘমেয়াদি অভিজ্ঞতা ও বিশেষজ্ঞদের মতামত: বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে রাশিয়ার রয়েছে দীর্ঘদিনের সুনাম ও সফল অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, চীন, মিসর এবং তুরস্কের মতো দেশে রুশ প্রযুক্তির রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে। ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তিটি খোদ রাশিয়ায় বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত সফল প্রমাণিত হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ছাড়াও জ্বালানি সরবরাহ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ এবং তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় রুশ সহযোগিতা আগামী কয়েক দশক ধরে অব্যাহত থাকবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম মনে করেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের উপযোগী স্থান সহজে পাওয়া যায় না, যা রূপপুরের ক্ষেত্রে সফলভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। কেবল দুটি রিঅ্যাক্টর দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও সর্বোচ্চ সুফল পাওয়া সম্ভব নয়, তাই রূপপুরে আরও দুটি ইউনিট স্থাপন করা অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত ও সময়ের দাবি।

গ্যাস খাতের উন্নয়নেও রাশিয়ার ভূমিকা: পারমাণবিক খাতের পাশাপাশি বাংলাদেশের নিজস্ব জ্বালানি অনুসন্ধানেও রাশিয়া দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। রুশ জ্বালানি কোম্পানি ‘গ্যাজপ্রম ইন্টারন্যাশনাল’ গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাপেক্স এবং অন্যান্য গ্যাস কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় ২০টি কূপ সফলভাবে খনন করেছে। বিশেষ করে ভোলার ইলিশা-১, টবগী-১ এবং ভোলা নর্থ-২ কূপে গ্যাজপ্রমের মাধ্যমে গ্যাস আবিষ্কৃত হয়েছে, যেখান থেকে প্রতিদিন প্রায় ৬০ মিলিয়নের বেশি ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের সম্ভাবনা রয়েছে। দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো গেলে একদিকে যেমন এলএনজি আমদানির ওপর বাড়তি চাপ কমবে, অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হবে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

রূপপুরে আরও দুটি নতুন ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৯:৩৮:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চলমান চরম অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার মুখে দেশের দীর্ঘমেয়াদি ও নিরবচ্ছিন্ন শক্তি নিরাপত্তা অর্জনে গেমপ্ল্যান হিসেবে আবির্ভূত হতে চলেছে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। দেশের জ্বালানি খাতের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ এই প্রকল্পটি এখন চালুর চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বাণিজ্যিকভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। রাশিয়া সরকারের আর্থিক সহায়তা এবং তাদের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে নির্মিত এই মেগা প্রকল্পের প্রথম দুটি ইউনিটের যৌথ উৎপাদন ক্ষমতা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

ভবিষ্যতের জ্বালানি চাহিদা সামাল দিতে একই লোকেশনে আরও দুটি নতুন পারমাণবিক ইউনিট বা রিঅ্যাক্টর নির্মাণের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। নতুন এই ইউনিট দুটির উৎপাদন ক্ষমতাও আগেরগুলোর সমান হলে রূপপুরের মোট সক্ষমতা দ্বিগুণ হয়ে ৪ হাজার ৮০০ মেগাওয়াটে উন্নীত হবে। এর ফলে পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ, কারিগরি রক্ষণাবেক্ষণ, দক্ষ জনবল তৈরি এবং উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের যৌথ পাঁচসালা কর্মপরিকল্পনায় এই দুটি নতুন ইউনিটের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সমীক্ষার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেনের মতে, দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহে একটি শক্তিশালী রোডম্যাপ বাস্তবায়িত হচ্ছে, যেখানে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রূপপুর প্রকল্পের চত্বরে অতিরিক্ত দুটি ইউনিট বসানোর জন্য পর্যাপ্ত ভূমি আগে থেকেই সংরক্ষিত রাখা আছে, যা সম্প্রসারণের কাজকে সহজ করবে। এই সক্ষমতা বাড়ানো গেলে দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে স্বাবলম্বন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

প্রকল্পের বিশাল কর্মযজ্ঞ ও প্রযুক্তিগত দিক: রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন ‘রোসাটম’ এই প্রকল্পের মূল প্রযুক্তি সহযোগী হিসেবে কাজ করছে এবং এর প্রকৌশল শাখা ‘অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট’ প্রধান ঠিকাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। রূপপুরে ভিভিইআর-১২০০ মডেলের দুটি অত্যাধুনিক রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হয়েছে, যার প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। প্রায় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পে রাশিয়া প্রায় ৯০ শতাংশ সহজ শর্তে ঋণ সহায়তা দিচ্ছে। এছাড়া রুশ প্রতিষ্ঠান ‘টিভিইএল’ এই কেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় পারমাণবিক জ্বালানি প্রস্তুত করেছে।

বর্তমানে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন মূলত প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা এবং আমদানিভিত্তিক তরল জ্বালানির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। তবে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে উৎপাদন হ্রাসের কারণে এলএনজি আমদানির ওপর চাপ দিন দিন বাড়ছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যবৃদ্ধি এবং ভূরাজনৈতিক সংকটের কারণে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। অন্যদিকে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র একবার চালু হলে তুলনামূলক অল্প পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহার করে দীর্ঘ সময় ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে বেজলোড বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব। ফলে রূপপুর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর দেশের নির্ভরতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।

রাশিয়ার দীর্ঘমেয়াদি অভিজ্ঞতা ও বিশেষজ্ঞদের মতামত: বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে রাশিয়ার রয়েছে দীর্ঘদিনের সুনাম ও সফল অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, চীন, মিসর এবং তুরস্কের মতো দেশে রুশ প্রযুক্তির রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে। ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তিটি খোদ রাশিয়ায় বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত সফল প্রমাণিত হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ছাড়াও জ্বালানি সরবরাহ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ এবং তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় রুশ সহযোগিতা আগামী কয়েক দশক ধরে অব্যাহত থাকবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম মনে করেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের উপযোগী স্থান সহজে পাওয়া যায় না, যা রূপপুরের ক্ষেত্রে সফলভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। কেবল দুটি রিঅ্যাক্টর দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও সর্বোচ্চ সুফল পাওয়া সম্ভব নয়, তাই রূপপুরে আরও দুটি ইউনিট স্থাপন করা অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত ও সময়ের দাবি।

গ্যাস খাতের উন্নয়নেও রাশিয়ার ভূমিকা: পারমাণবিক খাতের পাশাপাশি বাংলাদেশের নিজস্ব জ্বালানি অনুসন্ধানেও রাশিয়া দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। রুশ জ্বালানি কোম্পানি ‘গ্যাজপ্রম ইন্টারন্যাশনাল’ গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাপেক্স এবং অন্যান্য গ্যাস কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় ২০টি কূপ সফলভাবে খনন করেছে। বিশেষ করে ভোলার ইলিশা-১, টবগী-১ এবং ভোলা নর্থ-২ কূপে গ্যাজপ্রমের মাধ্যমে গ্যাস আবিষ্কৃত হয়েছে, যেখান থেকে প্রতিদিন প্রায় ৬০ মিলিয়নের বেশি ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের সম্ভাবনা রয়েছে। দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো গেলে একদিকে যেমন এলএনজি আমদানির ওপর বাড়তি চাপ কমবে, অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হবে।