চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ আশঙ্কাজনক রূপ ধারণ করেছে। মাত্র ৯ দিনের ব্যবধানে এই মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে দুই নাবালক শিশুসহ মোট তিনজনের জীবনাবসান ঘটেছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিরাজুল মনিরা নামের ৫ বছরের এক শিশু শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করে। সে সীতাকুণ্ড পৌরসভার অন্তর্গত আমিরাবাদ এলাকার অধিবাসী নুরুন্নবীর মেয়ে। এর পূর্বে গত ১৫ সেপ্টেম্বর উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের তুলাতুলি এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ রাফসান (২৬) নামের এক যুবক প্রাণ হারান।
আর গত ৮ সেপ্টেম্বর চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফৌজদারহাট এলাকার ৩ বছর বয়সী শিশু সিফাতের মৃত্যু হয়। এই তিন প্রাণহানির ঘটনায় পুরো সীতাকুণ্ড জুড়ে এখন চরম ডেঙ্গু আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্বজনরা জানান, গত কয়েকদিন ধরে উচ্চ মাত্রার জ্বর ও শারীরিক দুর্বলতায় ভুগছিল শিশু মনিরা। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে গত মঙ্গলবার তাকে সীতাকুণ্ড পৌরসদরে অবস্থিত মেডিকেয়ার ল্যাবে নেওয়া হয়। সেখানে রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে দ্রুত তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে বুধবার তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হলেও বৃহস্পতিবার সকালে সে মারা যায়। দুই বোনের মধ্যে ছোট মনিরাকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তার বাবা-মা এবং এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, আগস্ট মাসজুড়ে ওই হাসপাতালে মোট ৫১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। আর চলতি সেপ্টেম্বরের ১৬ তারিখ পর্যন্ত নতুন করে আরও ৬৫ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন। যাদের অবস্থা জটিল মনে হয়েছে, তাদের তাৎক্ষণিকভাবে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জেসমিন আক্তার জানান, প্রতিনিয়ত ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসার জন্য আসছেন এবং গুরুতর রোগীদের রেফার করা হচ্ছে। তবে শিশু মনিরার মৃত্যুর বিষয়টি তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে তিনি সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।


























