Dhaka ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে উদার ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে রাষ্ট্রপতি আহ্বান

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৯:০৭:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ১১ বার দেখা হয়েছে

ধর্ম, বর্ণ ও জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রেখে একটি উদার, গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার (৪ অক্টোবর) বঙ্গভবনে শ্রী শ্রী হরি-গুরুচাঁদ মতুয়া মিশন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শ্রী পদ্মনাভ ঠাকুরের নেতৃত্বে সংগঠনটির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এই গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করেছেন। সব ধর্ম ও মতের মানুষের এই অসাম্প্রদায়িক ঐক্যের ফলেই আমরা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছি। তাই ঐতিহাসিক এই জাতীয় ঐক্য ও সম্প্রীতি বিনষ্ট করার যেকোনো ধরনের অপচেষ্টা যেকোনো মূল্যে শক্ত হাতে প্রতিহত করতে হবে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, এ দেশের হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে যুগ যুগ ধরে গভীর সামাজিক বন্ধন বিদ্যমান রয়েছে; সেই ঐতিহাসিক সামাজিক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সর্বদাই সচেতন থাকতে হবে।

রাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের দায়িত্ব পালনের মাত্র সাত মাসের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক বিভেদ সৃষ্টি এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে নেতিবাচক প্রচারণার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। বিগত সময়ের ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠন করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন একটি চ্যালেঞ্জ হলেও বর্তমান সরকার নানামুখী উদ্যোগ ও সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশে নতুন করে একটি উদার ও পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা যেন কোনো চক্রান্তেই নস্যাৎ হতে না পারে—সে বিষয়ে দেশের সব নাগরিককে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। রাষ্ট্রপতি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে সব সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়েই বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।

বৈঠকে দেশের পিছিয়ে পড়া মতুয়া সম্প্রদায়ের সার্বিক উন্নয়ন ও কল্যাণে বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি এবং সুনির্দিষ্ট উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি মতুয়া সম্প্রদায়ের সার্বিক সামাজিক কল্যাণে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের নীতিগত সহযোগিতার পূর্ণ আশ্বাস প্রদান করেন।

সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মতুয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম পবিত্র তীর্থস্থান ‘শ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ি’ পরিদর্শনের ভাবগম্ভীর নিমন্ত্রণ জানানো হয়। রাষ্ট্রপতি সানন্দে সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সুবিধাজনক সময়ে ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ি পরিদর্শনের আশ্বাস দেন।

বঙ্গভবনের এই সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধি দলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শ্রী শ্রী হরি-গুরুচাঁদ মতুয়া মিশন কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সভাপতি ও জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সুবর্ণা সিকদার (ঠাকুর), কমিটির উপদেষ্টা আহসান হাবিব অপু ও সমেন কুমার সাহা, সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ বিশ্বাস এবং শ্রী শ্রী হরি-গুরুচাঁদ মতুয়া মিশন খুলনা জেলা কমিটির সভাপতি নিত্যানন্দ মণ্ডলসহ মতুয়া সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ। এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে উদার ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে রাষ্ট্রপতি আহ্বান

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৯:০৭:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

ধর্ম, বর্ণ ও জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রেখে একটি উদার, গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার (৪ অক্টোবর) বঙ্গভবনে শ্রী শ্রী হরি-গুরুচাঁদ মতুয়া মিশন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শ্রী পদ্মনাভ ঠাকুরের নেতৃত্বে সংগঠনটির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এই গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করেছেন। সব ধর্ম ও মতের মানুষের এই অসাম্প্রদায়িক ঐক্যের ফলেই আমরা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছি। তাই ঐতিহাসিক এই জাতীয় ঐক্য ও সম্প্রীতি বিনষ্ট করার যেকোনো ধরনের অপচেষ্টা যেকোনো মূল্যে শক্ত হাতে প্রতিহত করতে হবে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, এ দেশের হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে যুগ যুগ ধরে গভীর সামাজিক বন্ধন বিদ্যমান রয়েছে; সেই ঐতিহাসিক সামাজিক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সর্বদাই সচেতন থাকতে হবে।

রাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের দায়িত্ব পালনের মাত্র সাত মাসের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক বিভেদ সৃষ্টি এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে নেতিবাচক প্রচারণার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। বিগত সময়ের ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠন করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন একটি চ্যালেঞ্জ হলেও বর্তমান সরকার নানামুখী উদ্যোগ ও সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশে নতুন করে একটি উদার ও পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা যেন কোনো চক্রান্তেই নস্যাৎ হতে না পারে—সে বিষয়ে দেশের সব নাগরিককে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। রাষ্ট্রপতি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে সব সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়েই বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।

বৈঠকে দেশের পিছিয়ে পড়া মতুয়া সম্প্রদায়ের সার্বিক উন্নয়ন ও কল্যাণে বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি এবং সুনির্দিষ্ট উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি মতুয়া সম্প্রদায়ের সার্বিক সামাজিক কল্যাণে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের নীতিগত সহযোগিতার পূর্ণ আশ্বাস প্রদান করেন।

সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মতুয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম পবিত্র তীর্থস্থান ‘শ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ি’ পরিদর্শনের ভাবগম্ভীর নিমন্ত্রণ জানানো হয়। রাষ্ট্রপতি সানন্দে সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সুবিধাজনক সময়ে ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ি পরিদর্শনের আশ্বাস দেন।

বঙ্গভবনের এই সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধি দলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শ্রী শ্রী হরি-গুরুচাঁদ মতুয়া মিশন কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সভাপতি ও জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সুবর্ণা সিকদার (ঠাকুর), কমিটির উপদেষ্টা আহসান হাবিব অপু ও সমেন কুমার সাহা, সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ বিশ্বাস এবং শ্রী শ্রী হরি-গুরুচাঁদ মতুয়া মিশন খুলনা জেলা কমিটির সভাপতি নিত্যানন্দ মণ্ডলসহ মতুয়া সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ। এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।