রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য একটি নতুন শান্তি প্রস্তাব নিয়ে জোর আলোচনা চললেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন—ইউক্রেন ও ইউরোপকে উপেক্ষা করে কোনো সমাধান সম্ভব নয়। বিশেষ করে যে প্রস্তাবটি রাশিয়ার দাবি ও বিবৃতির সঙ্গে বেশ ঘনিষ্ঠভাবে মিলে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ব্রাসেলসে ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে পৌঁছে ইইউ পররাষ্ট্রনীতির প্রধান কায়া কালাস বলেন, ইউরোপ সবসময় “দীর্ঘস্থায়ী ও ন্যায়সঙ্গত শান্তি” সমর্থন করেছে। তিনি জানান, “যে কোনো পরিকল্পনা সফল করতে হলে ইউক্রেন ও ইউরোপের সম্মতি অপরিহার্য।”
জার্মানি, স্পেন ও পোল্যান্ডের শীর্ষ কূটনীতিকরাও একই মত প্রকাশ করেন। পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোস্লাভ সিকর্সকি বলেন, ইউরোপের নিরাপত্তাই এখন ঝুঁকির মুখে, তাই সিদ্ধান্তে ইউরোপকে অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
তিনি যোগ করেন, “আশা করি সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হবে ভুক্তভোগীর ওপর নয়, বরং আগ্রাসীর ওপর।”
এদিকে রাশিয়ার আক্রমণ ইউরোপের দেশগুলোর ভেতরে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার নানা “শ্যাডো ওয়ার” কর্মকাণ্ড—সাইবার আক্রমণ, ড্রোন অনুপ্রবেশ—ইউরোপের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বুধবার যুক্তরাজ্য সতর্ক করে জানায়, ব্রিটিশ আকাশসীমার কাছে সপ্তাহব্যাপী ঘোরাফেরা করা একটি রুশ গুপ্তচর জাহাজ ব্রিটিশ পাইলটদের দিকে লেজার নিক্ষেপ করলে প্রয়োজনে “সামরিক পদক্ষেপ” নেওয়া হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে বুধবার ইউক্রেনের তেরনোপিল শহরে ভয়াবহ রুশ হামলায় কমপক্ষে ২৬ জন নিহত হন, যার মধ্যে তিন শিশু রয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, আরো ২২ জন নিখোঁজ এবং উদ্ধারকাজে ২৩০ জনের বেশি কর্মী নিয়োজিত আছেন। তিনি বলেন, “রাশিয়ানরা আবারও ঘুমিয়ে থাকা নিরীহ মানুষদের হত্যা করল।”
ইতোমধ্যেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ২৮ দফা পরিকল্পনা ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দনবাসের অবশিষ্ট অংশ রাশিয়াকে দিতে বাধ্য করবে এবং ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীকে উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করবে। পরিকল্পনাটি মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ইউক্রেনের নিরাপত্তা কাউন্সিল সচিব রুস্তেম উমেরোভকে ফ্লোরিডার মায়ামিতে উপস্থাপন করেছেন বলে সূত্র জানায়।
কিন্তু ইউক্রেন বরাবরই জানিয়েছে, তাদের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড সমর্পণ করার প্রশ্নই আসে না। জেলেনস্কির ভাষায়, “আমাদের ছাড়া কেউ আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।”
ইইউর ভেতরেও মতপার্থক্য রয়েছে। হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার সিয়াত্রো ইউক্রেনকে অর্থ দেওয়া বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন, চলমান দুর্নীতির তদন্তের প্রসঙ্গ তুলে। ইউক্রেনের জ্বালানি খাতে ১০০ মিলিয়ন ডলারের কেলেঙ্কারি তদন্তের মধ্যেই তাদের দুই মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন।
হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবান—যিনি পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র—ইউক্রেনের ইইউ সদস্য-পদ আলোচনায় বাধা দিচ্ছেন। ট্রাম্প প্রশাসনও সম্প্রতি হাঙ্গেরিকে রাশিয়া-সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় দিয়েছে।
সিয়াত্রো বলেন, “সময়ের সুবিধা ইউক্রেনের পক্ষে নয়—এটা ভাবা ভুল। আমি ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগকেই সমর্থন করি।”
















