Dhaka ১০:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৯:০০:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ৯ বার দেখা হয়েছে

পরিকল্পিত ও সুষম নগরায়নের লক্ষ্য সামনে রেখে দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশন এবং জেলায় সুনির্দিষ্ট মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করছে সরকার। নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশের সব নাগরিকের জন্য পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসন সুনিশ্চিত করতে এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (৫ অক্টোবর) পালিতব্য ‘বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে রোববার (৪ অক্টোবর) দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনার কথা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বাণীতে উল্লেখ করেন, পরিকল্পিত নগরায়ন ও পরিবেশবান্ধব টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে দেশবাসীর জন্য একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলাই বিশ্ব বসতি দিবস উদযাপনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সাল থেকে জাতিসংঘ ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার বিশ্ব বসতি দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। এ বছর ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ন’ প্রত্যয়কে সামনে রেখে প্রতিবছরের মতো বাংলাদেশেও নানা বর্ণাঢ্য আয়োজনে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে দ্রুত বর্ধনশীল নগরায়ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান বাসস্থানের চাহিদার প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ ঘোষিত এবারের প্রতিপাদ্য—‘সবার জন্য পর্যাপ্ত আবাসন’ (Adequate Housing for All) অত্যন্ত সময়োপযোগী ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে।

দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং পরিকল্পিত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও পরিবেশবান্ধব নগরায়ন বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার বলে পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, এই লক্ষ্য অর্জনে আবাসন, দীর্ঘমেয়াদি নগর পরিকল্পনা, মানসম্মত নাগরিক সেবা, পরিবেশ সুরক্ষার তাগিদ এবং জলবায়ু পরিবর্তন সহনশীলতাকে সমন্বিত করে একটি যুগোপযোগী ও কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

নগর উন্নয়নের বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ নগর জীবন নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। সরকার বিশেষ করে দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন নিশ্চিতকরণ এবং অঞ্চলভিত্তিক সুষম নগর উন্নয়নকে নীতিগতভাবে বিশেষ অগ্রাধিকার প্রদান করছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সব নাগরিকের জন্য পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী বাসস্থান এবং এমন একটি নগর ও বসতি সুনিশ্চিত করা প্রয়োজন—যেখানে সাধারণ মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা, সুস্থ পরিবেশ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিতভাবে পায়। বিশ্ব বসতি দিবস মূলত আমাদের সেই সাংবিধানিক ও সামাজিক দায়িত্বের কথাই বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়।

প্রধানমন্ত্রী বাণীতে উল্লেখ করেন, সর্বজনীন বাসস্থান নিশ্চিত করা এবং টেকসই নগরায়নের মাধ্যমে সবার জন্য বাসযোগ্য শহর গড়ে তোলা আজ সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। বর্তমানে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য ছোট-বড় শহর ও নগরগুলো দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও অপরিকল্পিত নগরায়ন, ক্রমবর্ধমান যানজট, পরিবেশ দূষণ, অপর্যাপ্ত নাগরিক সেবা, তীব্র আবাসন সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিবাসনের ফলে নগরজীবনে নানা জটিল চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি হচ্ছে।

এসব বাস্তবমুখী চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলায় বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন, সুনির্দিষ্ট ও পরিকল্পিত নগরায়ন এবং নিম্ন আয়ের পরিবার ও বস্তিবাসীদের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার স্পষ্ট ও বাস্তবভিত্তিক অঙ্গীকার রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। বাণীতে তিনি বলেন, বস্তিবাসী মানুষের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত আবাসনের সুনির্দিষ্ট মালিকানা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং আধুনিক ও সমন্বিত পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

‘সবার জন্য বাসস্থান’ প্রত্যয়টিকে সরকার কেবল একটি ইটের ঘরের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখে না, বরং এটিকে নিরাপদ খাবার পানি, আধুনিক স্যানিটেশন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় মৌলিক নাগরিক সেভার একটি পূর্ণাঙ্গ ও সমন্বিত নিশ্চয়তা হিসেবে বিবেচনা করে। সরকার এই পরিকল্পিত লক্ষ্য অর্জনেই প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ হাতে নিয়েছে।

প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর এবং নারায়ণগঞ্জে নতুন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের মাধ্যমে দেশজুড়ে পরিকল্পিত ও সুষম নগর উন্নয়নের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি আরও বেশি শক্তিশালী ও সুসংহত করা হচ্ছে। সরকারের এই সকল যুগান্তকারী উদ্যোগ একটি নিরাপদ, সমাজ-অন্তর্ভুক্তিমূলক, জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তুলতে এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-১১ (SDG-11) অর্জনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, টেকসই আবাসন ও আধুনিক নগরায়ন নিশ্চিত করা শুধু এককভাবে সরকারের একার দায়িত্ব নয়। এ ক্ষেত্রে বেসরকারী বিনিয়োগকারী, স্থানীয় সাধারণ জনগোষ্ঠী, উন্নয়নমূলক এনজিও, সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের সমন্বিত ও সক্রিয় অংশগ্রহণ একান্ত প্রয়োজন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন তৈরি, বস্তি এলাকার ভৌত উন্নয়ন, সুপেয় পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সার্বিক পরিবেশ সুরক্ষায় ‘সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব’ (PPP) অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মতপ্রকাশ করেন।

বর্তমান সরকার এমন একটি সমৃদ্ধ ও সমতাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে নগর ও গ্রাম নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি মানুষ নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসন, প্রয়োজনীয় মৌলিক নাগরিক সেবা এবং সুস্থ, পরিচ্ছন্ন ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে বসবাসের পূর্ণ অধিকার পাবে। পরিকল্পিত ও সুষম উন্নয়নের মাধ্যমে একটি মানবিক, বাসযোগ্য ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ‘বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬’-এর সর্বাঙ্গীন সাফল্য ও সার্থকতা কামনা করেন।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৯:০০:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

পরিকল্পিত ও সুষম নগরায়নের লক্ষ্য সামনে রেখে দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশন এবং জেলায় সুনির্দিষ্ট মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করছে সরকার। নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশের সব নাগরিকের জন্য পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসন সুনিশ্চিত করতে এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (৫ অক্টোবর) পালিতব্য ‘বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে রোববার (৪ অক্টোবর) দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনার কথা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বাণীতে উল্লেখ করেন, পরিকল্পিত নগরায়ন ও পরিবেশবান্ধব টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে দেশবাসীর জন্য একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলাই বিশ্ব বসতি দিবস উদযাপনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সাল থেকে জাতিসংঘ ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার বিশ্ব বসতি দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। এ বছর ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ন’ প্রত্যয়কে সামনে রেখে প্রতিবছরের মতো বাংলাদেশেও নানা বর্ণাঢ্য আয়োজনে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে দ্রুত বর্ধনশীল নগরায়ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান বাসস্থানের চাহিদার প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ ঘোষিত এবারের প্রতিপাদ্য—‘সবার জন্য পর্যাপ্ত আবাসন’ (Adequate Housing for All) অত্যন্ত সময়োপযোগী ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে।

দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং পরিকল্পিত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও পরিবেশবান্ধব নগরায়ন বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার বলে পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, এই লক্ষ্য অর্জনে আবাসন, দীর্ঘমেয়াদি নগর পরিকল্পনা, মানসম্মত নাগরিক সেবা, পরিবেশ সুরক্ষার তাগিদ এবং জলবায়ু পরিবর্তন সহনশীলতাকে সমন্বিত করে একটি যুগোপযোগী ও কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

নগর উন্নয়নের বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ নগর জীবন নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। সরকার বিশেষ করে দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন নিশ্চিতকরণ এবং অঞ্চলভিত্তিক সুষম নগর উন্নয়নকে নীতিগতভাবে বিশেষ অগ্রাধিকার প্রদান করছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সব নাগরিকের জন্য পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী বাসস্থান এবং এমন একটি নগর ও বসতি সুনিশ্চিত করা প্রয়োজন—যেখানে সাধারণ মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা, সুস্থ পরিবেশ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিতভাবে পায়। বিশ্ব বসতি দিবস মূলত আমাদের সেই সাংবিধানিক ও সামাজিক দায়িত্বের কথাই বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়।

প্রধানমন্ত্রী বাণীতে উল্লেখ করেন, সর্বজনীন বাসস্থান নিশ্চিত করা এবং টেকসই নগরায়নের মাধ্যমে সবার জন্য বাসযোগ্য শহর গড়ে তোলা আজ সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। বর্তমানে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য ছোট-বড় শহর ও নগরগুলো দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও অপরিকল্পিত নগরায়ন, ক্রমবর্ধমান যানজট, পরিবেশ দূষণ, অপর্যাপ্ত নাগরিক সেবা, তীব্র আবাসন সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিবাসনের ফলে নগরজীবনে নানা জটিল চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি হচ্ছে।

এসব বাস্তবমুখী চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলায় বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন, সুনির্দিষ্ট ও পরিকল্পিত নগরায়ন এবং নিম্ন আয়ের পরিবার ও বস্তিবাসীদের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার স্পষ্ট ও বাস্তবভিত্তিক অঙ্গীকার রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। বাণীতে তিনি বলেন, বস্তিবাসী মানুষের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত আবাসনের সুনির্দিষ্ট মালিকানা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং আধুনিক ও সমন্বিত পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

‘সবার জন্য বাসস্থান’ প্রত্যয়টিকে সরকার কেবল একটি ইটের ঘরের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখে না, বরং এটিকে নিরাপদ খাবার পানি, আধুনিক স্যানিটেশন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় মৌলিক নাগরিক সেভার একটি পূর্ণাঙ্গ ও সমন্বিত নিশ্চয়তা হিসেবে বিবেচনা করে। সরকার এই পরিকল্পিত লক্ষ্য অর্জনেই প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ হাতে নিয়েছে।

প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর এবং নারায়ণগঞ্জে নতুন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের মাধ্যমে দেশজুড়ে পরিকল্পিত ও সুষম নগর উন্নয়নের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি আরও বেশি শক্তিশালী ও সুসংহত করা হচ্ছে। সরকারের এই সকল যুগান্তকারী উদ্যোগ একটি নিরাপদ, সমাজ-অন্তর্ভুক্তিমূলক, জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তুলতে এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-১১ (SDG-11) অর্জনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, টেকসই আবাসন ও আধুনিক নগরায়ন নিশ্চিত করা শুধু এককভাবে সরকারের একার দায়িত্ব নয়। এ ক্ষেত্রে বেসরকারী বিনিয়োগকারী, স্থানীয় সাধারণ জনগোষ্ঠী, উন্নয়নমূলক এনজিও, সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের সমন্বিত ও সক্রিয় অংশগ্রহণ একান্ত প্রয়োজন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন তৈরি, বস্তি এলাকার ভৌত উন্নয়ন, সুপেয় পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সার্বিক পরিবেশ সুরক্ষায় ‘সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব’ (PPP) অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মতপ্রকাশ করেন।

বর্তমান সরকার এমন একটি সমৃদ্ধ ও সমতাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে নগর ও গ্রাম নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি মানুষ নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসন, প্রয়োজনীয় মৌলিক নাগরিক সেবা এবং সুস্থ, পরিচ্ছন্ন ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে বসবাসের পূর্ণ অধিকার পাবে। পরিকল্পিত ও সুষম উন্নয়নের মাধ্যমে একটি মানবিক, বাসযোগ্য ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ‘বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬’-এর সর্বাঙ্গীন সাফল্য ও সার্থকতা কামনা করেন।