মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখে কেবল দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শ্রমিক পাঠানোর ওপর সর্বাত্মক গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। গত রবিবার (৪ অক্টোবর ২০২৬) সচিবালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি এই সুনির্দিষ্ট নীতিমালার কথা জানান।
অতীতে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধরনের সিন্ডিকেট এবং শ্রমিক হয়রানির তীব্র অভিযোগ ও তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান যে, বর্তমান সরকার এবার এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি রোধে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমেই বন্ধ থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার পুনরায় খোলার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে, তবে অতীতের মতো কোনো অনিয়ম সেখানে বরদাশত করা হবে না।
শ্রমমন্ত্রী আরও জানান যে, কেবল সাধারণ বা অদক্ষ শ্রমিক পাঠালেই চলবে না, বরং মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তাদের সুনির্দিষ্ট চাহিদা (ডিমান্ড) অনুযায়ী দক্ষ কর্মী পাঠাতে হবে। অপ্রশিক্ষিত অবস্থায় শ্রমিক পাঠানো হলে তারা বিদেশে গিয়ে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন, তাই দেশেই সুনির্দিষ্ট চাহিদার ভিত্তিতে প্রশিক্ষণ প্রদানের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমনকি মালয়েশিয়া থেকে নিয়োগদাতারা বাংলাদেশে এসে নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী কর্মী নির্বাচন করার সুযোগও পেতে পারেন। প্রবাসী কল্যাণ বোর্ডের সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের পাশাপাশি অন্যান্য অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোও এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকবে। তবে বর্তমানে শ্রমিকদের মেডিকেল পরীক্ষা সংক্রান্ত নির্দিষ্ট প্রক্রিয়াগুলো এখনও পুরোপুরি অনুমোদিত হয়নি, যা মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে চাহিদা ও অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক বিষয় নিশ্চিত হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।
বিদেশি কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজারে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বিভিন্ন যুগান্তকারী উদ্যোগের কথা তুলে ধরে শ্রমমন্ত্রী জানান যে, চলতি বছরের মধ্যেই দেশে আধুনিক ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার’ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে অনলাইন ও অফলাইন উভয় পদ্ধতিতে চাকরিপ্রার্থী এবং দেশের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মী চাহিদার একটি সমন্বিত ডাটাবেস তৈরি করা সম্ভব হবে। এছাড়া বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে জব ফেয়ার বা ক্যারিয়ার ফেয়ার আয়োজনের মাধ্যমে তরুণ ও যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের খুঁজে বের করা হবে। একই সঙ্গে চলতি মাসের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।






















