ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেবল দেশের সর্বউচ্চ ও শীর্ষস্থানীয় বিদ্যাপীঠই নয়, বরং এটি আমাদের জাতীয় রাজনীতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে যুগ যুগ ধরে অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছে। গত রোববার (৪ অক্টোবর ২০২৬) বঙ্গভবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই অভিমত ব্যক্ত করেন। এ সময় তিনি দেশের এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান আরও বহুগুণ বাড়িয়ে একে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমকক্ষ ও কাতারে নিয়ে যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎকালে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা হয়। রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন যে, গণতন্ত্র কোনো তাৎক্ষণিক বিষয় নয়, বরং এটি একটি জীবনঘনিষ্ঠ সংস্কৃতি যা নিয়মিত চর্চা ও অনুশীলনের মাধ্যমে ধাপে ধাপে গড়ে ওঠে। একটি সুস্থ ও কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি, গণতন্ত্রকে তার নিজস্ব গতিতে সচল ও অর্থবহ রাখতে হলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং বিরোধী দলকেও পর্যাপ্ত রাজনৈতিক পরিসর ও মতামত প্রকাশের সুযোগ দেওয়া আবশ্যক, কারণ এটিই প্রকৃত গণতন্ত্রের মূল সৌন্দর্য।
এই সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নির্বাচিত হওয়ায় উষ্ণ অভিনন্দন জানান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক একাডেমিক কার্যক্রম, প্রশাসনিক অগ্রগতি ও শিক্ষার পরিবেশ সম্পর্কে তাকে বিস্তারিত অবহিত করেন। আলোচনা শেষে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন ৫৪তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মহামান্য আচার্য (চ্যান্সেলর) হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি আনন্দের সঙ্গে এই আমন্ত্রণ সানন্দে গ্রহণ করেন এবং নির্ধারিত সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সদয় আশ্বাস প্রদান করেন।
অত্যंत সৌহার্দ্যপূর্ণ ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাতের সময় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের উচ্চপদস্থ সামরিক সচিব, সচিব এবং প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য এবং কোষাধ্যক্ষও এই বৈঠকে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক অগ্রগতি এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক ধারাকে আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে এই সৌজন্য সাক্ষাৎটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।






















