বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দিন দিন অত্যন্ত উদ্বেগজনক রূপ ধারণ করেছে, যার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে পিরোজপুর জেলায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের ছয়টি জেলায় মোট ২১৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে একা পিরোজপুরেই আক্রান্ত হয়েছেন ৭৩ জন। অর্থাৎ, এই অঞ্চলের মোট নতুন রোগীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশই এই জেলার বাসিন্দা। চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত কেবল পিরোজপুরেই তিন হাজারের অধিক মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।
পিরোজপুর সদর হাসপাতালসহ জেলার সাতটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শুধু স্থানীয় রোগীরাই নন, বরং পার্শ্ববর্তী জেলা বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ ও কচুয়া উপজেলার ডেঙ্গু রোগীরাও উন্নত চিকিৎসার জন্য পিরোজপুরের হাসপাতালগুলোতে ছুটে আসছেন। ফলে সরকারি পরিসংখ্যানে রোগীর প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে পিরোজপুরে ডেঙ্গু সংক্রমণ অন্য জেলার তুলনায় এত বেশি মাত্রায় ছড়িয়ে পড়ছে, তার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো স্বাস্থ্য বিভাগ নিশ্চিত করতে পারেনি।
রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে জেলার হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা পরিচালনা করতে গিয়ে নানা ধরনের জটিলতা ও অব্যবস্থাপনার সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক রোগী ও তাদের স্বজনেরা হাসপাতালের ভেতরের পরিবেশ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি এবং ডেঙ্গু কর্নারের আশপাশে ময়লা-আবর্জনা ও পোকামাকড়ের উপস্থিতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অপরদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করছে যে, পর্যাপ্ত ওষুধ ও লজিস্টিক সাপোর্ট থাকা সত্ত্বেও প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগীর বাড়তি চাপ সামাল দিতে তাদের বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে।
দক্ষিণ অঞ্চলের এই জেলায় ডেঙ্গুর এমন আক্রমণাত্মক বিস্তার রোধে এখনই কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। অতীতে বরগুনা জেলায় ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রকোপ সফলভাবে মোকাবিলার যে অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়েছিল, পিরোজপুরের ক্ষেত্রেও সেই মডেল বা কৌশলগুলো অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা না হলে আসন্ন দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।


























