যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির বিপরীতে প্রচলিত যুদ্ধের পথে না হেঁটে তুলনামূলক কম খরচে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার দীর্ঘদিনের কৌশল অনুসরণ করে আসছে ইরান। ড্রোন হামলা, ছোট নৌযান ব্যবহার, মাইন পুঁতে রাখা এবং মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহায়তায় পরিচালিত এই অসম যুদ্ধকৌশল কেবল সামরিক ক্ষতি সাধনেই নয়, বরং আঞ্চলিক মিত্রদের মধ্যে বিভেদ তৈরির লক্ষ্যেই পরিচালিত হয়।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির নিকটবর্তী এলাকা থেকে সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার এবং ইসরাইলগামী একটি উড়োজাহাজের ককপিটে হামলার ঘটনার পর ইরানের এই কৌশল নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলের আলোচনায় এসেছে। যদিও এসব ঘটনার সঙ্গে তেহরানের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখনো প্রকাশ করেনি সংশ্লিষ্ট দেশগুলো।
বিশ্লেষকদের মতে, ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনায় যদি ইরানের ভূমিকা নিশ্চিত হয়, তবে তা তাদের প্রচলিত অসম কৌশলের একটি বিপজ্জনক নতুন মাত্রা হিসেবে বিবেচিত হবে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই মূলত সামরিক সমীকরণ বদলানোর অংশ হিসেবে এই রণকৌশলকে প্রধান অস্ত্র বানিয়ে আসছে তেহরান, যা পরবর্তীতে ইরান-ইরাক যুদ্ধসহ বিভিন্ন সময়ে বিস্তার লাভ করে।
ইরানের উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারাও বরাবরই এই অসম যুদ্ধকে তাদের প্রতিরক্ষা নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে অভিহিত করে আসছেন। শত্রুর ব্যয়বহুল ও ভারী অস্ত্রের মোকাবিলায় কম খরচে সহজ ও কার্যকর সরঞ্জাম ব্যবহারের মাধ্যমেই লক্ষ্য অর্জন করাই এই কৌশলের মূল ভিত্তি বলে বিভিন্ন সময় উল্লেখ করেছে তেহরানের সামরিক নেতৃত্ব।























