‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ বা কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্রের রূপরেখা চূড়ান্ত হওয়ার পথে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের (২০২৭ সাল) জানুয়ারিতে পাইলট প্রকল্প শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে বর্তমান নির্বাচিত বিএনপি সরকার। এ লক্ষ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটি নিরলসভাবে কাজ করছে। সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ রূপরেখার চূড়ান্ত অনুমোদন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জানা গেছে, বৈঠকের পর এই রূপরেখা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় আশা করছে, ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসের মধ্যে এটি চূড়ান্ত করে আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে পাইলট প্রজেক্ট চালু করা যাবে।
চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতার মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি এবং দেশজুড়ে দক্ষতার ঘাটতি দূর করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মেধাভিত্তিক ও ন্যায্য কর্মসংস্থান ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারকরা এটিকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। মূলত খাতভিত্তিক ও আঞ্চলিক অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং সারা দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে সরকারের বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কর্মসূচির আওতায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠা করা হবে। এসব কেন্দ্র স্থানীয় পর্যায়ে চাকরি ও দক্ষতার সমন্বয় ঘটানোর অবকাঠামো হিসেবে কাজ করবে। সেখানে নিবন্ধিত প্রার্থীরা তাদের মেধা ও দক্ষতার ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদে নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবেন। এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ শুধু চাকরিপ্রার্থীদের শূন্য পদের সঙ্গে সংযুক্ত করবে না, বরং শ্রমবাজারের চাহিদা ও কর্মীদের সক্ষমতার মধ্যে ব্যবধানও কমাবে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ গঠনসংক্রান্ত কমিটি এর রূপরেখা চূড়ান্ত করতে কাজ করছে। ইতোমধ্যে কমিটি স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে চারটি বৈঠক সম্পন্ন করেছে এবং তাদের মতামত গ্রহণ করেছে। সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, কোনো চাকরিপ্রার্থীর প্রয়োজনীয় দক্ষতা না থাকলে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে তাকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণকেন্দ্রে পাঠানো হবে। প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বাড়ানোই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।






















