পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানির (ইউরেনিয়াম) নতুন একটি চালান দেশে এসে পৌঁছেছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ও আলোচনা শেষে রাশিয়া থেকে রওনা হওয়া ইউরেনিয়ামবাহী বিশেষ বিমানটি ভারত হয়ে শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে ইউরেনিয়ামের চালানটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেন। বিমানবন্দরে প্রাথমিক আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে রাতেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে জ্বালানির এই চালানটি সরাসরি পাবনার রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের মধ্যে মোট ৯টি পৃথক ফ্লাইটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আরও ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বল দেশে পৌঁছাবে। এর মধ্যে প্রথম ইউনিটের জন্য বাড়তি ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বল আনা হবে। এসব চালান রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে আকাশপথে বাংলাদেশে পৌঁছাবে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৩ সালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের প্রথম জ্বালানি দেশে আনা হয়েছিল, যা চলতি বছরের মে মাসে পারমাণবিক চুল্লিতে সফলভাবে বসানো হয়।
এদিকে কেন্দ্রটি চালুর কারিগরি প্রস্তুতির অংশ হিসেবে স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভের পরীক্ষা পরিচালনা করা হচ্ছে। তিন ধাপের পরীক্ষার মধ্যে প্রথম দুটি পরীক্ষা সফল হলেও তৃতীয় ভালভটির পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যায়নি। ফলে প্রকৌশলীরা সেটি পুনরায় পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. কবির জানান, এটি বড় কোনো জটিলতা নয়। মূল প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো ইতোমধ্যে সমাধান করা হয়েছে এবং এই বিষয়টি দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ শেষ হলেই দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে পর্যায়ক্রমে বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।






















