রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযুক্ত সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে কেবল সংসদীয় আসন থেকে পদত্যাগই শেষ কথা নয় উল্লেখ করে ঘটনাটি ধামাচাপা না দিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও এর নেপথ্যে মদদদাতাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে দল দুটি।
উল্লেখ্য, গত ২৪ সেপ্টেম্বর নিম্ন ও মধ্যবিত্তের চিকিৎসা সেবার জন্য পরিচিত জনপ্রিয় এই চিকিৎসাকেন্দ্রটিতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। হাসপাতালটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলে দেশজুড়ে চরম ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। শুরু থেকেই বিরোধী পক্ষ ক্ষমতাসীন দলের এক এমপি ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেও তা অস্বীকার করা হচ্ছিল। পরবর্তীতে গণমাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনায় জড়িতদের সুনির্দিষ্ট তথ্য বেরিয়ে এলে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয় প্রশাসন ও দল।
ঘটনার পর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিসহ সহযোগী সংগঠনের আরও দুটি কমিটি ভেঙে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। তবে মূল অভিযুক্ত এমপি ফেরদৌসি আহমেদ মিষ্টির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় সমালোচনা থামেনি। পরবর্তীতে গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশে এমপি মিষ্টি পদত্যাগ করেন এবং সংসদ সচিবালয় তাঁর আসনটি শূন্য ঘোষণা করে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করে।
সরকারের এ পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, হাসপাতাল ভাঙচুরের সরাসরি অভিযোগে অভিযুক্ত এমপিকে পদত্যাগের পাশাপাশি অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে। ঘটনাটি কোনোভাবে ধামাচাপা না দিয়ে মিরপুর এলাকার প্রভাবশালী কিছু প্রতিমন্ত্রী বা এমপি, যাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এমন ঘটনা ঘটেছে এবং যারা বাস্তবায়নে ভূমিকা রেখেছে, তাদের সবাইকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, “আমরা চাই অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনের সর্বজনীন প্রয়োগ হোক। সিলেক্টিভ বা বেছে বেছে আইনের প্রয়োগ বন্ধ করে দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে সব অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।”
একই বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বিলম্বিত এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, শুধু একজন সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপিকে দল থেকে সরিয়ে দেওয়া বা পদত্যাগ করানোই স্থায়ী সমাধান নয়। কেবল রাড্ডা ক্লিনিকই নয়, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দলীয় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে যারা চাঁদাবাজি, দখল ও নানা অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও সমভাবে অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকার ও ক্ষমতাসীন দলকে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার তাগিদ দিয়ে তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, “সরকারি দল যদি শিক্ষা না নেয়, তবে অতীতে স্বৈরাচারের মতো তাদেরও একই ধরনের কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।”
দোষারোপের অনর্থক রাজনীতি পরিহার করে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে রাড্ডা ক্লিনিক কাণ্ডে সরাসরি জড়িত ও পেছনে থাকা আশ্রয়দাতাদের শনাক্ত করে কঠোর আইনি শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা।






















