Dhaka ০২:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

ঘরজামাই দত্তক নিচ্ছে জাপানের ধনী পরিবার, আবেদন করতে পারবেন বাংলাদেশিরাও

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৩:৪২:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩৪ বার দেখা হয়েছে

বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে গেলেন জামাই হিসেবে। কিন্তু কিছুদিন পর বদলে গেল পরিচয়—হয়ে গেলেন পরিবারেরই ছেলে, পেলেন শ্বশুরবাড়ির পদবি, আর ভবিষ্যতে পেতে পারেন পারিবারিক ব্যবসা ও সম্পদের উত্তরাধিকার! জাপানে এমন ঘটনা মোটেও অস্বাভাবিক নয়। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই প্রথার নাম ‘মুকোয়োশি’, সহজ বাংলায় যাকে বলা যায় ‘দত্তক ঘরজামাই’।

জাপানে দত্তক নেওয়ার ধারণাটি অনেক দেশের চেয়ে আলাদা। সেখানে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকেও দত্তক নেওয়ার প্রচলন রয়েছে। বিশেষ করে কোনো পরিবারে ছেলে না থাকলে কিংবা নিজের সন্তানকে ব্যবসার উত্তরসূরি হিসেবে উপযুক্ত মনে না হলে, তারা যোগ্য একজন পুরুষকে দত্তক নিতে পারে। মেয়ের স্বামী হলে বিষয়টি আরও সহজ হয়।

দত্তক হওয়ার পর ওই ব্যক্তি পরিবারের পদবি গ্রহণ করেন। একই সাথে জন্মসন্তানের মতোই পান উত্তরাধিকার ও পারিবারিক দায়িত্ব। ফলে একজন জামাই হয়ে উঠতে পারেন পরিবারের ছেলে এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক উত্তরসূরি।

এর পেছনে বড় কারণ পারিবারিক ব্যবসার ধারাবাহিকতা। জাপানে বহু পুরোনো ব্যবসা এখনও পরিবারকেন্দ্রিকভাবে পরিচালিত হয়। ছেলে না থাকলে ব্যবসার নেতৃত্ব ও পারিবারিক পদবি যেন হারিয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করতেই অনেক পরিবার ‘মুকোয়োশি’ পদ্ধতি বেছে নেয়।

জাপানের ব্যবসায়িক ইতিহাসেও এর উদাহরণ রয়েছে। সুজুকি মোটর করপোরেশন, নিনটেনডো ও কিক্কোমানের মতো প্রতিষ্ঠানের উত্তরাধিকার ব্যবস্থায় বিভিন্ন সময়ে দত্তক উত্তরসূরির ভূমিকা দেখা গেছে। সুজুকির দীর্ঘদিনের প্রধান ওসামু সুজুকিও ছিলেন দত্তক নেওয়া পরিবারের উত্তরসূরি।

শুধু ব্যবসা নয়, সম্পদের উত্তরাধিকার নিশ্চিত করতেও প্রাপ্তবয়স্ক কাউকে দত্তক নেওয়া হয়। জাপানের সরকারি পারিবারিক নথি ‘কোসেকি’-তে দত্তক প্রক্রিয়া নিবন্ধিত হয়। এরপর দত্তক সন্তান পরিবারের পদবি ও উত্তরাধিকারের অধিকার পান। একই সাথে বয়স্ক পরিবারের সদস্যদের দেখাশোনার মতো দায়িত্বও তার ওপর বর্তাতে পারে।

তাহলে বিদেশিরা কি হতে পারেন ‘মুকোয়োশি’? নির্দিষ্ট আইনি শর্ত পূরণ করলে জাপানে বসবাসরত বিদেশিদেরও প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দত্তক নেওয়া সম্ভব। অর্থাৎ, যোগ্যতা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী কোনো বাংলাদেশি নাগরিকও জাপানি পরিবারের দত্তক সন্তান হতে পারেন। তবে দত্তক নেওয়া মানেই জাপানের নাগরিকত্ব বা ভিসা পাওয়া নয়—এসবের জন্য আলাদা আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে।

জাপানে জন্মহার কমে যাওয়ার সাথে সাথে উত্তরাধিকারী সংকটও অনেক পারিবারিক ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে নিজের সন্তান ব্যবসায় আগ্রহী না হলে বা উপযুক্ত উত্তরসূরি না থাকলে, কোনো কোনো পরিবার বাইরের একজন যোগ্য পুরুষকে দত্তক নিয়ে ব্যবসার ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করছে।

তবে আধুনিক জাপানে ‘মুকোয়োশি’ নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। নারীরা এখন ব্যবসা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাই শুধু পুরুষ উত্তরাধিকারী খোঁজার এই ঐতিহ্য কতটা প্রয়োজনীয়—তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

তারপরও শত বছরের এই প্রথা এখনও টিকে আছে। কারণ জাপানে ‘মুকোয়োশি’ শুধু একজন জামাইকে দত্তক নেওয়ার গল্প নয়; এর সাথে জড়িয়ে আছে বিয়ে, পরিবার, ব্যবসা, সম্পদ, পদবি এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার হিসাব।

জনপ্রিয়

বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব হাইব্রিড গাড়ি সংযোজন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করছে টয়োটা

ঘরজামাই দত্তক নিচ্ছে জাপানের ধনী পরিবার, আবেদন করতে পারবেন বাংলাদেশিরাও

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৩:৪২:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে গেলেন জামাই হিসেবে। কিন্তু কিছুদিন পর বদলে গেল পরিচয়—হয়ে গেলেন পরিবারেরই ছেলে, পেলেন শ্বশুরবাড়ির পদবি, আর ভবিষ্যতে পেতে পারেন পারিবারিক ব্যবসা ও সম্পদের উত্তরাধিকার! জাপানে এমন ঘটনা মোটেও অস্বাভাবিক নয়। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই প্রথার নাম ‘মুকোয়োশি’, সহজ বাংলায় যাকে বলা যায় ‘দত্তক ঘরজামাই’।

জাপানে দত্তক নেওয়ার ধারণাটি অনেক দেশের চেয়ে আলাদা। সেখানে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকেও দত্তক নেওয়ার প্রচলন রয়েছে। বিশেষ করে কোনো পরিবারে ছেলে না থাকলে কিংবা নিজের সন্তানকে ব্যবসার উত্তরসূরি হিসেবে উপযুক্ত মনে না হলে, তারা যোগ্য একজন পুরুষকে দত্তক নিতে পারে। মেয়ের স্বামী হলে বিষয়টি আরও সহজ হয়।

দত্তক হওয়ার পর ওই ব্যক্তি পরিবারের পদবি গ্রহণ করেন। একই সাথে জন্মসন্তানের মতোই পান উত্তরাধিকার ও পারিবারিক দায়িত্ব। ফলে একজন জামাই হয়ে উঠতে পারেন পরিবারের ছেলে এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক উত্তরসূরি।

এর পেছনে বড় কারণ পারিবারিক ব্যবসার ধারাবাহিকতা। জাপানে বহু পুরোনো ব্যবসা এখনও পরিবারকেন্দ্রিকভাবে পরিচালিত হয়। ছেলে না থাকলে ব্যবসার নেতৃত্ব ও পারিবারিক পদবি যেন হারিয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করতেই অনেক পরিবার ‘মুকোয়োশি’ পদ্ধতি বেছে নেয়।

জাপানের ব্যবসায়িক ইতিহাসেও এর উদাহরণ রয়েছে। সুজুকি মোটর করপোরেশন, নিনটেনডো ও কিক্কোমানের মতো প্রতিষ্ঠানের উত্তরাধিকার ব্যবস্থায় বিভিন্ন সময়ে দত্তক উত্তরসূরির ভূমিকা দেখা গেছে। সুজুকির দীর্ঘদিনের প্রধান ওসামু সুজুকিও ছিলেন দত্তক নেওয়া পরিবারের উত্তরসূরি।

শুধু ব্যবসা নয়, সম্পদের উত্তরাধিকার নিশ্চিত করতেও প্রাপ্তবয়স্ক কাউকে দত্তক নেওয়া হয়। জাপানের সরকারি পারিবারিক নথি ‘কোসেকি’-তে দত্তক প্রক্রিয়া নিবন্ধিত হয়। এরপর দত্তক সন্তান পরিবারের পদবি ও উত্তরাধিকারের অধিকার পান। একই সাথে বয়স্ক পরিবারের সদস্যদের দেখাশোনার মতো দায়িত্বও তার ওপর বর্তাতে পারে।

তাহলে বিদেশিরা কি হতে পারেন ‘মুকোয়োশি’? নির্দিষ্ট আইনি শর্ত পূরণ করলে জাপানে বসবাসরত বিদেশিদেরও প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দত্তক নেওয়া সম্ভব। অর্থাৎ, যোগ্যতা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী কোনো বাংলাদেশি নাগরিকও জাপানি পরিবারের দত্তক সন্তান হতে পারেন। তবে দত্তক নেওয়া মানেই জাপানের নাগরিকত্ব বা ভিসা পাওয়া নয়—এসবের জন্য আলাদা আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে।

জাপানে জন্মহার কমে যাওয়ার সাথে সাথে উত্তরাধিকারী সংকটও অনেক পারিবারিক ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে নিজের সন্তান ব্যবসায় আগ্রহী না হলে বা উপযুক্ত উত্তরসূরি না থাকলে, কোনো কোনো পরিবার বাইরের একজন যোগ্য পুরুষকে দত্তক নিয়ে ব্যবসার ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করছে।

তবে আধুনিক জাপানে ‘মুকোয়োশি’ নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। নারীরা এখন ব্যবসা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাই শুধু পুরুষ উত্তরাধিকারী খোঁজার এই ঐতিহ্য কতটা প্রয়োজনীয়—তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

তারপরও শত বছরের এই প্রথা এখনও টিকে আছে। কারণ জাপানে ‘মুকোয়োশি’ শুধু একজন জামাইকে দত্তক নেওয়ার গল্প নয়; এর সাথে জড়িয়ে আছে বিয়ে, পরিবার, ব্যবসা, সম্পদ, পদবি এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার হিসাব।