ঐতিহাসিক চাঁচড়া দশমহাবিদ্যা মন্দিরের নিয়ন্ত্রণ ইসকনের হাতে যাওয়ার পর থেকেই স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। মন্দির প্রাঙ্গণে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে উচ্ছেদের পাঁয়তারা, প্রবেশাধিকার সীমিত করা এবং বিভিন্ন আর্থিক ও নৈতিক অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও সম্প্রতি এক কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্যু পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
নিহত কিশোরী শিপ্রা ঘোষের পরিবারের সরাসরি অভিযোগ, মন্দিরের অধ্যক্ষ ও ইসকন নেতা অনুপম রায় ওরফে অপার গোবিন্দ দাসের যৌন নিপীড়ন এবং মানসিক নির্যাতনের কারণেই সে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। যদিও ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত অধ্যক্ষ গা-ঢাকা দিয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে যশোর শহর ও মন্দির চত্বরে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন। তারা অভিযুক্ত অধ্যক্ষের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তবে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের একাংশের দাবি, ইসকনের বিরুদ্ধে আনা অনেক অভিযোগই ভিত্তিহীন।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মন্দিরের ঐতিহ্য রক্ষা এবং ধর্মীয় পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে ইসকনের কর্মকাণ্ড নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে গভীর ক্ষোভ রয়েছে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।


























