আল জাজিরার অনুসন্ধানী ইউনিট উন্মোচন করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর গোপন প্রচেষ্টা—যার লক্ষ্য দেশের বড় শহরগুলোতে সক্রিয় আন্ডারগ্রাউন্ড বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে দমন করা।
‘আকার’ নামে পরিচিত এক ইলেকট্রিশিয়ান আল জাজিরাকে জানান, সেনাবাহিনীর হাতে আটক হওয়ার পর থেকেই তিনি জানতেন, তার মৃত্যু অনিবার্য। বিদ্রোহী এই তরুণ বিদ্যুৎ প্রকৌশলী ছিলেন এক গোপন স্কোয়াডের সদস্য, যারা সামরিক সরকারের সহযোগী ও অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাত। কয়েক সপ্তাহ গোপন আটক কেন্দ্রে নির্যাতনের পর তাকে কুখ্যাত ইনসেইন কারাগারে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়—যা থেকে তিনি প্রাণে বেঁচে যান।
আল জাজিরা হাতে পাওয়া ফাঁস হওয়া সামরিক নথি, গোপন রেকর্ডিং ও সাক্ষ্য বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, সেনাবাহিনী দেশের বড় শহরগুলোয় ক্রমবর্ধমান নগর বিদ্রোহীদের দমন করতে হিমশিম খাচ্ছে। এসব নথিতে উঠে এসেছে গেরিলা তৎপরতা, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতন কেন্দ্রের ভয়াবহ বাস্তবতা।
২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারের শহরগুলোতে অসংখ্য বিদ্রোহী গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে। ইয়াঙ্গুন, মান্দালয় ও নেপিদোতে এদের হামলায় বহু সামরিক কর্মকর্তা, প্রাক্তন জেনারেল ও সরকারপন্থী ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। সেনাবাহিনী এদের ‘শহুরে সন্ত্রাসী’ হিসেবে অভিযুক্ত করে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করেছে। ফাঁস হওয়া নথিতে শত শত সন্দেহভাজনের নাম পাওয়া গেছে।
জাতিসংঘের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক সরকারের সঙ্গে যুক্ত অন্তত ১৬৯ জন কর্মকর্তা, ধর্মীয় নেতা ও সাধারণ নাগরিককে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে প্রাণ দিতে হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
আল জাজিরার হাতে থাকা ভিডিওতে দেখা গেছে, মান্দালয়ে সেনা ঘাঁটিতে আটক বিদ্রোহীদের লোহার রড ও তার দিয়ে পেটানো হচ্ছে। সাবেক এক সামরিক কর্মকর্তা ‘এ কে’ জানান, অনেক সময় আটক যোদ্ধাদের গোপনে হত্যা করে মিথ্যা রিপোর্ট তৈরি করা হয়, যেখানে বলা হয় তারা পালানোর সময় নিহত হয়েছে।
অন্যদিকে সামরিক সরকারের দাবি, এসব নগর বিদ্রোহী সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিপন্ন করছে, বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিরপরাধদের হত্যা করছে। তারা বলেছে, সেনারা আইন মেনে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করছে।
তবে নির্যাতন থেকে বেঁচে ফেরা আকার জানান, নির্যাতনের সময় তার শিশুকন্যাকে এনে সামনে হত্যা দেখানোর হুমকি দেওয়া হয়েছিল। “ওই মুহূর্তে আমার পৃথিবী ভেঙে পড়েছিল,” বলেন তিনি। বর্তমানে দেশ ছেড়ে বিদেশে আশ্রিত আকার আবারও ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ করছেন, কিন্তু এখনও বিশ্বাস করেন—নগর বিদ্রোহই মিয়ানমারে স্বৈরাচারের পতনের পথ খুলে দেবে।
















