চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘ক্যানসার’ নামটি শুনলেই মানুষের মনে একধরনের ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে অমূলক আতঙ্কিত না হয়ে রোগটি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণই হলো এর প্রধান প্রতিকার। বিশেষ করে নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির তালিকায় স্তন ক্যানসার অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২৪ লাখ নারী নতুন করে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রায় সাত লাখ নারী এই মারাত্মক রোগে প্রাণ হারিয়েছেন। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই নারীদের মধ্যে এর প্রাদুর্ভাব রয়েছে।
আমাদের দেশেও স্তন ক্যানসার নিয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। রোগ সম্পর্কে অজ্ঞতা, সামাজিক গোঁড়ামি বা সংকোচ, স্তনে আসা যেকোনো পরিবর্তনকে এড়িয়ে চলা এবং চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করার ফলে অনেক সময় জটিলতা বৃদ্ধি পায়। অথচ প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটি শনাক্ত করা গেলে তা সম্পূর্ণ নিরাময় করা সম্ভব।
শারীরিক প্রক্রিয়ায় স্তনের কোষগুলো যখন স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে গিয়ে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকে, তখন টিউমার বা গুটি সৃষ্টি হতে পারে, যা পরবর্তীতে স্তন ক্যানসারের রূপ নিতে পারে। তবে মনে রাখা প্রয়োজন যে, স্তনে দেখা দেওয়া প্রতিটি গুটিই ক্যানসারযুক্ত নয়। ক্যানসার কোষগুলো সময়ের সাথে সাথে আশপাশের টিস্যু এবং পরবর্তীতে শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই স্তনে কোনো ধরনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করলেই তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
স্তন ক্যানসার কেন হয় বা এর ঝুঁকি বাড়ানোর পেছনে নির্দিষ্ট কোনো একটি কারণ দায়ী নয়। বয়স বৃদ্ধি, পারিবারিক ও বংশগত ইতিহাস, প্রজননসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় এবং জীবনযাত্রার ধরন এর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে ঝুঁকি থাকলেই যে ক্যানসার হবে বিষয়টি এমন নয়, আবার কোনো স্পষ্ট ঝুঁকি ছাড়াও যেকোনো নারীর এই রোগ হতে পারে।
বয়স বাড়ার সাথে সাথে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়, তাই বয়স বৃদ্ধির সাথে নারীদের এ বিষয়ে আরও বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এছাড়া মা, বোন বা মেয়ের মতো নিকটাত্মীয়ের স্তন ক্যানসারের পূর্ব ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। পরিবারে একাধিক সদস্যের অল্প বয়সে এই রোগ বা ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে জিনগত ঝুঁকির বিষয়টি গুরুত্বের সাথে মূল্যায়ন করা উচিত। বিশেষ করে মেনোপজ বা ঋতুাবন্ধের পর শরীরের অতিরিক্ত ওজনও স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হতে পারে।


























