মাদারীপুর সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাত গ্রামের বাসিন্দারা তাদের দীর্ঘদিনের ভোটকেন্দ্র স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরকারি সিডস্টোর ভবনের সামনে এই কর্মসূচি পালিত হয়। ভোটারদের দাবি, বর্তমান ভোটকেন্দ্রটি আগের স্থানেই বহাল রাখা হোক, কারণ এটি তাদের জন্য সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ২০০৩ সাল থেকে সরকারি সিডস্টোর ভবনটি ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি সাতটি গ্রামের মাঝামাঝি অবস্থানে হওয়ায় নারী, বয়স্ক এবং সাধারণ ভোটারদের জন্য সহজে যাতায়াতযোগ্য। সম্প্রতি কেন্দ্রটি ৬ নম্বর ওয়ার্ড সংলগ্ন ফরাজীকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানান্তরের উদ্যোগের কথা জানতে পেরে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রস্তাবিত ফরাজীকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত এবং সেখানে এই ওয়ার্ডের কোনো ভোটারের বসতবাড়িও নেই। ফলে কেন্দ্রটি সেখানে সরানো হলে সাত গ্রামের অনেক ভোটারকে অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিয়ে ভোট দিতে যেতে হবে। এতে বিশেষ করে নারী, বয়স্ক, অসুস্থ ও শারীরিকভাবে দুর্বল ভোটারদের চরম দুর্ভোগ বাড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। ভোটারদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে দীর্ঘদিনের বর্তমান কেন্দ্রটি বহাল রাখার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে আবুল বাশার, হেদায়েত খান, ফজেল হাওলাদার, সুমন ফরাজী, সাবিনা ও সুরভি সাহেদাসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। কর্মসূচিতে সাত গ্রামের সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন।
কেন্দ্রটি বহাল রাখার দাবিতে গত ৩০ জুলাই ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকজন বাসিন্দা মাদারীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাতটি গ্রামের মাঝামাঝি হওয়ায় সরকারি সিডস্টোর ভবনটি ভোটারদের জন্য সুবিধাজনক। বিপরীতে ফরাজীকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ওয়ার্ডের প্রান্তে হওয়ায় সেখানে কেন্দ্র স্থানান্তর করা হলে ভোটারদের যাতায়াতে ভোগান্তি তৈরি হতে পারে।
এ বিষয়ে মাদারীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ জানান, উভয় পক্ষের লোকজন আবেদন করেছেন এবং তাদের নিয়ে গণশুনানিও অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুনানিতে সন্তুষ্ট না হয়ে বিভাগীয় শহরে পুনরায় তদন্তের জন্য আবেদন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।






















