রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনার সুসান রাইল। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জ্বালানি নিরাপত্তা, দক্ষ জনশক্তি অভিবাসন, কারিগরি শিক্ষা, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও বাড়াতে অস্ট্রেলিয়ার জোরালো সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। সাক্ষাৎকালে অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনার দেশটির গভর্নর জেনারেল মিজ স্যাম মস্টিন এসির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন ও আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছাপত্র হস্তান্তর করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি উৎস বহুমুখীকরণের ওপর জোর দিয়ে রাষ্ট্রপতি অস্ট্রেলিয়া থেকে এলএনজি আমদানির সুযোগ তৈরির প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি অনুসন্ধান, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং উৎপাদন খাতে অস্ট্রেলিয়ার আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি। আগামী নভেম্বরে ক্যানবেরায় অনুষ্ঠেয় সিনিয়র কর্মকর্তাদের বৈঠক ও টিআইএফএ বৈঠক দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল ও কেয়ারগিভার প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কারিগরি ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি অভিবাসনের সুযোগ এবং বাংলাদেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর (টিটিসি) সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার টেকনিক্যাল অ্যান্ড ফার্দার এডুকেশন (টিএএফই) প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘস্থায়ী সমাধানেও অস্ট্রেলিয়ার অব্যাহত মানবিক সহায়তা ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেন। বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তিনি ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, কর সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ইতিবাচক রেগুলেটরি ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ব্যাংকিং সংস্কারের ভূয়সী প্রশংসা করেন। সাক্ষাতকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ডেপুটি হাইকমিশনার ক্লিনটন পবকে উপস্থিত ছিলেন।






















