ধর্ম এবং রাষ্ট্র পরিচালনা সম্পূর্ণ আলাদা দুটি বিষয় এবং ধর্মের নামে ব্যবসা করে কখনো রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদী দল-পিএনপির ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।
পাকিস্তানের উদাহরণ টেনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, শুধু ধর্মের ওপর ভিত্তি করে কোনো দেশ বা রাষ্ট্র টিকে থাকতে পারে না; বরং একটি দেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ভাষা, ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং ভৌগোলিক সীমানাসহ বিভিন্ন উপাদানের সমন্বয়ে জাতীয়তাবাদী চেতনা গড়ে ওঠে। তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা নেতার হাত শক্তিশালী করলেই দেশের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত হয় না, এর জন্য সবার আগে জনগণের ক্ষমতায়ন ও সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন, যা যেকোনো দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবিলা সহজ করে তোলে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বিগত আন্দোলনের বিষয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, যুগপৎ আন্দোলনের প্রক্রিয়ায় কৌশলগত কারণে বিভিন্ন দলকে সম্পৃক্ত করা হয়েছিল এবং ২০ দলীয় জোট ভেঙে যায়নি। এ সময় ভারতের অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা প্রয়োজন হলেও বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। এছাড়া ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র করলে তা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় উল্লেখ করে তিনি দাবি জানান যে, শেখ হাসিনার দেশে ফিরে এসে আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতের মুখোমুখি হওয়া উচিত।
দেশের অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতের ভঙ্গুর দশা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গয়েশ্বর বলেন, অর্থপাচারের কারণে দেশের ব্যাংকগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং গ্রাহকরা নিজেদের আমানতের টাকা তুলতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তাই সাধারণ মানুষের আমানতের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। পিএনপি চেয়ারম্যান ও ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ফিরোজ মোহাম্মদ লিটনের সভাপতিত্বে উক্ত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নুল আবেদিন ফারুক এমপি। এছাড়া অনুষ্ঠানে পিএনপির মহাসচিব আহমেদুর রহমানসহ ১২ দলীয় জোটের অন্যান্য শীর্ষ নেতারাও বক্তব্য রাখেন।






















