Dhaka ০৫:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

চলতি বছরে ডেঙ্গু সংক্রমণ ও মৃত্যুতে গত দুই বছরের রেকর্ড ভঙ্গ

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৩:২৬:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৭ বার দেখা হয়েছে

২০২৪ ও ২০২৫ সালের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়ে গত দুই বছরের রেকর্ড ভেঙেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসটি ডেঙ্গুর সবচেয়ে ভয়ংকর রূপ নিয়ে হাজির হয়েছে। শুধু সেপ্টেম্বরেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন ৪৩ হাজার ৭৭৪ জন এবং মারা গেছেন ১৪৮ জন। তুলনামূলকভাবে গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৮৬৬ এবং মৃত্যু হয়েছিল ৭৬ জনের, আর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আক্রান্ত হয়েছিল ১৮ হাজার ০৯৭ জন ও মৃত্যু হয়েছিল ৮০ জনের।

চলতি বছরের সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৭৯ হাজার ৬২০ জন এবং প্রাণ হারিয়েছেন ২৪৫ জন। এর বিপরীতে ২০২৫ সালের প্রথম ৯ মাসে আক্রান্ত হয়েছিল ৪৭ হাজার ৩৪২ জন (মৃত্যু ১৯০+), এবং ২০২৪ সালের একই সময়ে আক্রান্ত ছিল ৩০ হাজার ৯৩৮ জন (মৃত্যু ১৬৩)। মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বছরের শুরু থেকেই সংক্রমণ কম থাকলেও জুনের পর থেকে তা দ্রুত বাড়তে থাকে এবং আগস্টে তা ২০ হাজারের ঘর পেরিয়ে সেপ্টেম্বরে এক লাফে ৪৩ হাজারে গিয়ে দাঁড়ায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মতে, যদিও ২০২৩ সালের ভয়াবহতার রেকর্ড এখনো অতিক্রম হয়নি, তবে গত দুই বছরের তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতির পর ২০২৬ সালে ডেঙ্গুর এই ঊর্ধ্বমুখী বিস্তার জনস্বাস্থ্যকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলছে।

ডেঙ্গুর এই ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ জানিয়েছেন যে, দেশে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদী উদ্যোগের অভাব রয়েছে। প্রচলিত ব্যবস্থা দিয়ে এই মশা দমন কঠিন হয়ে পড়েছে এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে অক্টোবরেও ডেঙ্গু আক্রান্তের হার আরও বাড়তে পারে এবং নভেম্বর-ডিসেম্বরে সংক্রমণ পুরোপুরি না কমলেও কিছুটা কমে আসতে পারে। এছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবহৃত টিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশে টিকা চালুর আগে এর কার্যকারিতা, বাস্তবায়ন সক্ষমতা এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর অভিজ্ঞতা যাচাইয়ের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ফিজিবিলিটি স্টাডি করা অত্যন্ত জরুরি।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

চলতি বছরে ডেঙ্গু সংক্রমণ ও মৃত্যুতে গত দুই বছরের রেকর্ড ভঙ্গ

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৩:২৬:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

২০২৪ ও ২০২৫ সালের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়ে গত দুই বছরের রেকর্ড ভেঙেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসটি ডেঙ্গুর সবচেয়ে ভয়ংকর রূপ নিয়ে হাজির হয়েছে। শুধু সেপ্টেম্বরেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন ৪৩ হাজার ৭৭৪ জন এবং মারা গেছেন ১৪৮ জন। তুলনামূলকভাবে গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৮৬৬ এবং মৃত্যু হয়েছিল ৭৬ জনের, আর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আক্রান্ত হয়েছিল ১৮ হাজার ০৯৭ জন ও মৃত্যু হয়েছিল ৮০ জনের।

চলতি বছরের সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৭৯ হাজার ৬২০ জন এবং প্রাণ হারিয়েছেন ২৪৫ জন। এর বিপরীতে ২০২৫ সালের প্রথম ৯ মাসে আক্রান্ত হয়েছিল ৪৭ হাজার ৩৪২ জন (মৃত্যু ১৯০+), এবং ২০২৪ সালের একই সময়ে আক্রান্ত ছিল ৩০ হাজার ৯৩৮ জন (মৃত্যু ১৬৩)। মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বছরের শুরু থেকেই সংক্রমণ কম থাকলেও জুনের পর থেকে তা দ্রুত বাড়তে থাকে এবং আগস্টে তা ২০ হাজারের ঘর পেরিয়ে সেপ্টেম্বরে এক লাফে ৪৩ হাজারে গিয়ে দাঁড়ায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মতে, যদিও ২০২৩ সালের ভয়াবহতার রেকর্ড এখনো অতিক্রম হয়নি, তবে গত দুই বছরের তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতির পর ২০২৬ সালে ডেঙ্গুর এই ঊর্ধ্বমুখী বিস্তার জনস্বাস্থ্যকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলছে।

ডেঙ্গুর এই ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ জানিয়েছেন যে, দেশে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদী উদ্যোগের অভাব রয়েছে। প্রচলিত ব্যবস্থা দিয়ে এই মশা দমন কঠিন হয়ে পড়েছে এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে অক্টোবরেও ডেঙ্গু আক্রান্তের হার আরও বাড়তে পারে এবং নভেম্বর-ডিসেম্বরে সংক্রমণ পুরোপুরি না কমলেও কিছুটা কমে আসতে পারে। এছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবহৃত টিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশে টিকা চালুর আগে এর কার্যকারিতা, বাস্তবায়ন সক্ষমতা এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর অভিজ্ঞতা যাচাইয়ের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ফিজিবিলিটি স্টাডি করা অত্যন্ত জরুরি।