Dhaka ১০:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

গাজায় ১৭ দিনের চিরুনি অভিযানে বিধ্বস্ত ভবন থেকে ১০৫ ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৯:৫৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৮ বার দেখা হয়েছে

টানা ১৭ দিনব্যাপী দীর্ঘ ও কষ্টসাধ্য চিরুনি অভিযان পরিচালনা করে অবরুদ্ধ গাজা সিটির একটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে ১০৫ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ ও অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। ইস্তাম্বুল থেকে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্য গাজা সিটির আল-তাজ এলাকায় বুধবার সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে এই বিশেষ উদ্ধার অভিযান পরিচালনার কথা জানানো হয়। চরম ঝুঁকিপূর্ণ এই উদ্ধার অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন করতে একটি মিশরীয় বিশেষ কমিটির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সমন্বয় করা হয়েছিল। ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা সাদা কাফনে মোড়ানো মৃতদেহগুলো সারিবদ্ধভাবে মাটিতে শুইয়ে রাখার পর সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয় এবং স্থানীয় বাসিন্দারা প্রিয়জনদের পরিচয় শনাক্ত করতে ভিড় জমান।

উদ্ধার অভিযানের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, উদ্ধারকৃতরা সবাই সাধারণ বেসামরিক নাগরিক এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে শান্তিতে স্বাভাবিক জীবনযাপনের পূর্ণ অধিকার তাঁদের রয়েছে। এই নৃশংস ধ্বংসযজ্ঞে নিজের কৃতি চিকিৎসক কন্যা, জামাতা ও চার শিশু নাতি-নাতনিসহ পুরো পরিবারকে চিরতরে হারিয়েছেন তাঘরিব আল-হানাবি। অশ্রুসিক্ত নয়নে তিনি জানান, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রিয়জনদের অবশিষ্টাংশগুলো শেষবারের মতো বুকে জড়িয়ে ধরতে পেরেছেন এবং তাদের যথাযথ মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন করেছেন। ওই এলাকার বেঁচে যাওয়া সৌভাগ্যবান বাসিন্দা ফাওয়াজ জিয়ারা জানান, ইসরায়েলি বাহিনী যখন ওই বিশাল আবাসিক ভবনে আকস্মিক হামলা চালায়, তখন সেখানে প্রায় তিনশ মানুষের সমাগম ছিল এবং এখনও বহু মানুষ কংক্রিটের স্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন।

এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবর মাসে সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে লাগাতার লঙ্ঘনের ফলে এখন পর্যন্ত নতুন করে ১ হাজার ৪৩১ জন ফিলিস্তিনির প্রাণ গেছে এবং আহত হয়েছেন ৫ হাজার ২৬ জন। অপরদিকে, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের নজিরবিহীন ও ধ্বংসাত্মক সামরিক আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত গাজা উপত্যকায় মোট নিহতের সংখ্যা ৭৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজারের অধিক মানুষ। টানা এই হামলার মুখে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো, বাসস্থান ও চিকিৎসাকেন্দ্র আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা আনোডোলু এজেন্সির সাংবাদিক হোসনি নেদিম ও তারেক চুইরেফের পাঠানো প্রতিবেদনে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই চিত্র উঠে এসেছে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

গাজায় ১৭ দিনের চিরুনি অভিযানে বিধ্বস্ত ভবন থেকে ১০৫ ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৯:৫৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

টানা ১৭ দিনব্যাপী দীর্ঘ ও কষ্টসাধ্য চিরুনি অভিযان পরিচালনা করে অবরুদ্ধ গাজা সিটির একটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে ১০৫ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ ও অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। ইস্তাম্বুল থেকে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্য গাজা সিটির আল-তাজ এলাকায় বুধবার সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে এই বিশেষ উদ্ধার অভিযান পরিচালনার কথা জানানো হয়। চরম ঝুঁকিপূর্ণ এই উদ্ধার অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন করতে একটি মিশরীয় বিশেষ কমিটির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সমন্বয় করা হয়েছিল। ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা সাদা কাফনে মোড়ানো মৃতদেহগুলো সারিবদ্ধভাবে মাটিতে শুইয়ে রাখার পর সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয় এবং স্থানীয় বাসিন্দারা প্রিয়জনদের পরিচয় শনাক্ত করতে ভিড় জমান।

উদ্ধার অভিযানের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, উদ্ধারকৃতরা সবাই সাধারণ বেসামরিক নাগরিক এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে শান্তিতে স্বাভাবিক জীবনযাপনের পূর্ণ অধিকার তাঁদের রয়েছে। এই নৃশংস ধ্বংসযজ্ঞে নিজের কৃতি চিকিৎসক কন্যা, জামাতা ও চার শিশু নাতি-নাতনিসহ পুরো পরিবারকে চিরতরে হারিয়েছেন তাঘরিব আল-হানাবি। অশ্রুসিক্ত নয়নে তিনি জানান, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রিয়জনদের অবশিষ্টাংশগুলো শেষবারের মতো বুকে জড়িয়ে ধরতে পেরেছেন এবং তাদের যথাযথ মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন করেছেন। ওই এলাকার বেঁচে যাওয়া সৌভাগ্যবান বাসিন্দা ফাওয়াজ জিয়ারা জানান, ইসরায়েলি বাহিনী যখন ওই বিশাল আবাসিক ভবনে আকস্মিক হামলা চালায়, তখন সেখানে প্রায় তিনশ মানুষের সমাগম ছিল এবং এখনও বহু মানুষ কংক্রিটের স্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন।

এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবর মাসে সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে লাগাতার লঙ্ঘনের ফলে এখন পর্যন্ত নতুন করে ১ হাজার ৪৩১ জন ফিলিস্তিনির প্রাণ গেছে এবং আহত হয়েছেন ৫ হাজার ২৬ জন। অপরদিকে, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের নজিরবিহীন ও ধ্বংসাত্মক সামরিক আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত গাজা উপত্যকায় মোট নিহতের সংখ্যা ৭৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজারের অধিক মানুষ। টানা এই হামলার মুখে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো, বাসস্থান ও চিকিৎসাকেন্দ্র আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা আনোডোলু এজেন্সির সাংবাদিক হোসনি নেদিম ও তারেক চুইরেফের পাঠানো প্রতিবেদনে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই চিত্র উঠে এসেছে।