২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকে দেশের ইতিহাস উপস্থাপনে বড় ধরনের পরিমার্জন ও পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এর অংশ হিসেবে নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ বইয়ে নতুন গদ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ শীর্ষক নিবন্ধ। একই সঙ্গে ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইসহ ইতিহাস পাঠে নিরপেক্ষতা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ, ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সংসদীয় গণতন্ত্রে উত্তরণে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকা এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস যুক্ত করা হচ্ছে।
এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ের ২২ নম্বর গদ্য হিসেবে ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধটি ঈষৎ সংক্ষিপ্ত আকারে যুক্ত হবে। নিবন্ধটির লেখক পরিচিতিতে জিয়াউর রহমানকে মুক্তিযুদ্ধের সময়ের ১ নম্বর সেক্টর কমান্ডার, ‘জেড ফোর্স’-এর অধিনায়ক, বীর উত্তম, সাবেক সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ নিবন্ধে ১৯৭১ সালের মার্চে চট্টগ্রাম শহরের প্রতিরোধ যুদ্ধ, ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা, কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান এবং অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেনাদের নিয়ে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রামাণ্য স্মৃতিকথা তুলে ধরা হয়েছে। এর আগে নিবন্ধটি ১৯৭২ সালে ‘দৈনিক বাংলা’য় ‘একটি জাতির জন্ম’ এবং ১৯৮০ সালে ‘দৈনিক দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।
ইতিহাসকে কোনো একক ব্যক্তি বা দলের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে উপস্থাপন না করে প্রাচীন বাংলা থেকে আধুনিক বাংলাদেশ পর্যন্ত এক নির্মোহ ধারাবাহিকতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে এনসিটিবি। নতুন পাঠ্যবইয়ে প্রাচীন বাংলার পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট গোপাল, সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ও মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মতো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের জীবন ও সংগ্রামকে পৃথকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ ও এর রাজনৈতিক প্রভাব শিক্ষার্থীদের সামনে তথ্যভিত্তিক ও বস্তুতনিষ্ঠভাবে তুলে ধরার প্রস্তুতি চলছে।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ৩০ কোটি ৯২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩৯ কপি নতুন পাঠ্যবই বিনামূল্যে বিতরণের জন্য ছাপানো হচ্ছে, যাতে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১,৮ ৯০ কোটি ১৬ লাখ টাকা। নতুন বছরে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের নির্ধারিত বইয়ের পাশাপাশি চতুর্থ শ্রেণিতে ‘খেলাধুলা’ ও ‘আমাদের সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘আনন্দময় শিক্ষা’ ও ‘কারিগরি শিক্ষা’র মতো নতুন বিষয় যুক্ত হচ্ছে। ১ জানুয়ারির মধ্যেই দেশের সব শিক্ষার্থীর হাতে প্রামাণ্য ও তথ্যসমৃদ্ধ বই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মাহমুদ ফখরুল মাওলা ও অন্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

























