রাজধানীতে সম্প্রতি সংঘটিত বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর সহিংসতা, দখলবাজি ও নৈরাজ্যের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা এবং সীমাবদ্ধতার বিষয়টি এখন প্রকাশ্য আলোচনায় এসেছে। মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিক ভাঙচুর, কনটেন্ট ক্রিয়েটরের অফিসে হামলা এবং মোহাম্মদপুরে জমি দখলের মতো গুরুতর ঘটনায় রাজনৈতিক সমীকরণ ও প্রভাবশালীদের বাধার মুখে তাৎক্ষণিক কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি পুলিশ। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে পুলিশ সদর দপ্তরে সম্প্রতি উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
আইজিপি আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে রাজধানীর সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে পুলিশের ভূমিকা এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা হয়। বৈঠকে উঠে আসে যে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং দলের স্পষ্ট নির্দেশনা না পেলে পুলিশ অনেক সময় প্রভাবশালী অপরাধীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর পদক্ষেপে পিছপা হয়। বিশেষ করে মিরপুরে ক্লিনিক ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব এবং সংশ্লিষ্টদের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় পুলিশকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এগোতে হয়েছে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মতে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের ইতিবাচক ও স্পষ্ট সবুজ সংকেত না মিললে পুলিশের পক্ষে এককভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। তবে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, জমি দখল ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের নমনীয়তা না দেখানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিয়মিত ক্রাইম কনফারেন্সেও সারা দেশের পুলিশ ইউনিটগুলোকে অপরাধীদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।






















