রাজধানীর মিরপুরে মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় এক সংসদ সদস্যের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে নিবিড় তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আসন্ন দুর্গাপূজা সংক্রান্ত আইনশৃঙ্খলা সভা শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে যার বা যাদেরই সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, কাউকেই কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ইতিমধ্যে রাড্ডার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার দায়ে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে রাজধানীর মিরপুরের ইসিবি চত্বর এলাকায় জমি দখল ও গোলাগুলির ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সুনির্দিষ্ট এজাহার পাওয়ার পর আইনি নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রাথমিক যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে মামলা নথিভুক্ত করা হচ্ছে। রাতের অন্ধকারে সংঘটিত ওই জমি দখলের ঘটনায় ৯৯৯-এ কল করার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার এবং আলামত সংগ্রহ করেছে। এই ঘটনায় নিউপ্রপার্টিজ কিংবা পার্শ্ববর্তী জমির মালিক—যেই জড়িত থাকুক না কেন, সবাইকে তদন্তের আওতায় এনে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের সাম্প্রতিক সমালোচনা ও মামলার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশি নিয়ম অনুযায়ী এজাহার পাওয়ার পর যত্রতত্র বা ইচ্ছামতো মামলা এন্ট্রি করার আগে প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন করতে হয়, অন্যথায় ঢালাওভাবে যেকোনো নিরপরাধ ব্যক্তির নামও জড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তিনি জানান, সালমান মুক্তাদির নিজে এখনও কোনো মামলা করেননি, বরং যে মামলাটি নথিভুক্ত হয়েছে তা একটি কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে করা হয়েছে। এছাড়া সালমান মুক্তাদির নিজেই স্বীকার করেছেন যে তার কাছে কোনো চাঁদা দাবি করা হয়নি, অথচ এরপরেও সরকারকে বা বিএনপিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চাঁদাবাজ হিসেবে অভিহিত করে ঢালাওভাবে দোষারোপ করার মতো মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে আলোকপাত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। একটি বা দুটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে সামনে এনে সমগ্র দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নেতিবাচক মূল্যায়ন করা কোনোভাবেই ঠিক হবে না। তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সময়ে দেশে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং সরকার যেকোনো অপরাধের ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে বদ্ধপরিকর।






















