Dhaka ১১:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

টিসিবি কার্ড বিতরণে ডিজিটাল নিবন্ধন ও কঠোর তদারকি ব্যবস্থা

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০২:৩৭:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৫ বার দেখা হয়েছে

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর মাধ্যমে সাশ্রয়ী ও ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়ার উপযুক্ত ব্যক্তি বা পরিবার নির্বাচনের ক্ষেত্রে নতুন এবং যুগোপযোগী নির্দেশিকা জারি করেছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ‘সমগ্র বাংলাদেশে টিসিবির উপকারভোগী নির্বাচন এবং ভর্তুকি/সাশ্রয়ীমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশিকা–২০২৬’ জারি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে উপকারভোগী নির্বাচন, কার্ড বিতরণ, ডিলারের পণ্য বিক্রি, হিসাব সংরক্ষণ এবং মাঠপর্যায়ে নজরদারির সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, টিসিবির কার্ড পাওয়ার যোগ্য ৯টি নির্দিষ্ট শ্রেণি হলো—হতদরিদ্র পরিবার, নিম্ন আয়ের ব্যক্তি, ভূমিহীন, কৃষিশ্রমিক, দিনমজুর, চা–শ্রমিক, চাতালশ্রমিক, কারখানার শ্রমিক এবং উপার্জনে অক্ষম ব্যক্তি। এছাড়া সমাজে পিছিয়ে পড়া বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত, স্বামী পরিত্যক্ত, অসচ্ছল বয়স্ক নারীপ্রধান পরিবার এবং যেসকল দুস্থ পরিবারে শিশু বা প্রতিবন্ধী সদস্য রয়েছে, তাদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে নীতিমালায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি এই সুবিধার আওতায় বা কার্ডের জন্য নির্বাচিত হতে পারবেন না। কার্ড পাওয়ার প্রধান শর্ত হিসেবে আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে, নিজস্ব জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) থাকতে হবে এবং একই এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত সচল মোবাইল নম্বর থাকতে হবে। নির্বাচিত উপকারভোগীদের সমস্ত তথ্য ‘টিসিবি সেবা অ্যাপ’-এর মাধ্যমে ডিজিটাল ডেটাবেইসে সংরক্ষণ করা হবে।

বিতরণ কার্যক্রমে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং সব ধরনের অনিয়ম রোধ করতে সিটি করপোরেশন, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে শক্তিশালী তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা তদারক কমিটিতে জেলা প্রশাসক সভাপতি এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এছাড়া দুর্নীতি ও অনিয়ম ঠেকাতে প্রতিটি ডিলারের দোকানে বাধ্যতামূলক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং দোকানের সামনে সুস্পষ্টভাবে পণ্যের মূল্যতালিকা টানিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নতুন নির্দেশিকায় টিসিবির কার্ডধারীদের জন্য পণ্যের নির্ধারিত পরিমাণ ও মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে—এর আওতায় প্রতি লিটার ১০০ টাকা দরে ২ লিটার ভোজ্যতেল, প্রতি কেজি ৬০ টাকা দরে ২ কেজি মসুর ডাল, প্রতি কেজি ৭০ টাকা দরে ১ কেজি চিনি এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ সাপেক্ষে ৫ কেজি চাল দেওয়া হবে।

টিসিবি সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দেশে ৭৫ লাখ কার্ডধারী রয়েছে এবং সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছেন যে, অনিয়মের অভিযোগে ইতিপূর্বে ৫৯ লাখ কার্ড বাতিল করা হয়েছে। নতুন এই ডিজিটাল কাঠামোর মাধ্যমে এসব কার্ড পুনরায় যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত ও যোগ্য সুবিধাভোগীদের মাঝে বিতরণ করা হবে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

টিসিবি কার্ড বিতরণে ডিজিটাল নিবন্ধন ও কঠোর তদারকি ব্যবস্থা

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০২:৩৭:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর মাধ্যমে সাশ্রয়ী ও ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়ার উপযুক্ত ব্যক্তি বা পরিবার নির্বাচনের ক্ষেত্রে নতুন এবং যুগোপযোগী নির্দেশিকা জারি করেছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ‘সমগ্র বাংলাদেশে টিসিবির উপকারভোগী নির্বাচন এবং ভর্তুকি/সাশ্রয়ীমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশিকা–২০২৬’ জারি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে উপকারভোগী নির্বাচন, কার্ড বিতরণ, ডিলারের পণ্য বিক্রি, হিসাব সংরক্ষণ এবং মাঠপর্যায়ে নজরদারির সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, টিসিবির কার্ড পাওয়ার যোগ্য ৯টি নির্দিষ্ট শ্রেণি হলো—হতদরিদ্র পরিবার, নিম্ন আয়ের ব্যক্তি, ভূমিহীন, কৃষিশ্রমিক, দিনমজুর, চা–শ্রমিক, চাতালশ্রমিক, কারখানার শ্রমিক এবং উপার্জনে অক্ষম ব্যক্তি। এছাড়া সমাজে পিছিয়ে পড়া বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত, স্বামী পরিত্যক্ত, অসচ্ছল বয়স্ক নারীপ্রধান পরিবার এবং যেসকল দুস্থ পরিবারে শিশু বা প্রতিবন্ধী সদস্য রয়েছে, তাদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে নীতিমালায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি এই সুবিধার আওতায় বা কার্ডের জন্য নির্বাচিত হতে পারবেন না। কার্ড পাওয়ার প্রধান শর্ত হিসেবে আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে, নিজস্ব জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) থাকতে হবে এবং একই এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত সচল মোবাইল নম্বর থাকতে হবে। নির্বাচিত উপকারভোগীদের সমস্ত তথ্য ‘টিসিবি সেবা অ্যাপ’-এর মাধ্যমে ডিজিটাল ডেটাবেইসে সংরক্ষণ করা হবে।

বিতরণ কার্যক্রমে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং সব ধরনের অনিয়ম রোধ করতে সিটি করপোরেশন, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে শক্তিশালী তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা তদারক কমিটিতে জেলা প্রশাসক সভাপতি এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এছাড়া দুর্নীতি ও অনিয়ম ঠেকাতে প্রতিটি ডিলারের দোকানে বাধ্যতামূলক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং দোকানের সামনে সুস্পষ্টভাবে পণ্যের মূল্যতালিকা টানিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নতুন নির্দেশিকায় টিসিবির কার্ডধারীদের জন্য পণ্যের নির্ধারিত পরিমাণ ও মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে—এর আওতায় প্রতি লিটার ১০০ টাকা দরে ২ লিটার ভোজ্যতেল, প্রতি কেজি ৬০ টাকা দরে ২ কেজি মসুর ডাল, প্রতি কেজি ৭০ টাকা দরে ১ কেজি চিনি এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ সাপেক্ষে ৫ কেজি চাল দেওয়া হবে।

টিসিবি সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দেশে ৭৫ লাখ কার্ডধারী রয়েছে এবং সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছেন যে, অনিয়মের অভিযোগে ইতিপূর্বে ৫৯ লাখ কার্ড বাতিল করা হয়েছে। নতুন এই ডিজিটাল কাঠামোর মাধ্যমে এসব কার্ড পুনরায় যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত ও যোগ্য সুবিধাভোগীদের মাঝে বিতরণ করা হবে।