ছাড়পত্র না মেলায় নির্ধারিত সময়ে দেশে পৌঁছায়নি পারমাণবিক জ্বালানির চালান; সরবরাহের জন্য অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে নতুন তারিখ প্রস্তাব করেছে রাশিয়া।
বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি ইউরেনিয়াম পরিবহনের জন্য নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি পাকিস্তান। তবে বিষয়টিকে স্রেফ ‘কারিগরি, প্রক্রিয়াগত ও যান্ত্রিক সমস্যা’ বলে দাবি করেছে দেশটি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআই-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তান হাইকমিশন এ বিষয়ে জানায়, আকাশসীমা ব্যবহার এবং কূটনৈতিক ফ্লাইটের অনুমোদনের প্রতিটি আবেদন তারা বেসামরিক বিমান চলাচলের নির্দিষ্ট প্রোটোকল ও নিয়ম মেনেই যথাসময়ে সম্পন্ন করে থাকে।
হাইকমিশনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত এই ঘটনাটি মূলত আকাশসীমা ও ফ্লাইটের রুট সংক্রান্ত কারিগরি বিষয়। অনেক সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিমান চলাচল সংস্থাগুলোর মধ্যে যথাযথ সমন্বয়ের স্বার্থে ফ্লাইটের সময়সূচিতে এমন পরিবর্তন হতে পারে। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নষ্ট করার উদ্দেশ্যে ছড়ানো কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণায় কান না দিয়ে বিষয়টিকে সম্পূর্ণ যান্ত্রিক দিক থেকে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে হাইকমিশন। পাশাপাশি তারা জোর দিয়ে বলেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ককে পাকিস্তান অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করে।
প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের ছাড়পত্র না পাওয়ায় রূপপুরের জন্য আনা ইউরেনিয়াম পরিবহন বাধাগ্রস্ত হয়। গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানির এই চালান দেশে পৌঁছানোর কথা ছিল, কিন্তু আকাশসীমার জটিলতায় তা আর সম্ভব হয়নি।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এএনআইকে টেলিফোনে নিশ্চিত করেছেন যে, ২৪ সেপ্টেম্বর ইউরেনিয়ামবাহী কার্গো ফ্লাইটটির আসার শিডিউল থাকলেও পাকিস্তানের আকাশসীমা উন্মুক্ত না থাকায় সেটি নির্ধারিত সময়ে আসতে পারেনি। আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না মেলার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনো জানা যায়নি উল্লেখ করে তিনি জানান, পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য রাশিয়া আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহকে নতুন সম্ভাব্য সময় হিসেবে প্রস্তাব করেছে।
এদিকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামও টেলিফোনে এএনআইকে জানান, চালানটি গ্রহণের জন্য বিমানবন্দরে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু রোসাটমের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা শেষ মুহূর্তে জানান যে আকাশসীমা ক্লিয়ারেন্স পাওয়া যায়নি, তাই ইউরেনিয়াম পাঠানো যাচ্ছে না। ফলশ্রুতিতে পুরো প্রক্রিয়ার নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করতে হবে। এ বিষয়ে রোসাটম প্রতিনিধির কাছে ই-মেইল করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো জবাব মেলেনি।
উল্লেখ্য, পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশীতে পদ্মার তীরে গড়ে ওঠা রূপপুর প্রকল্পই বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের অধীনে এবং রাশিয়ার স্টেট অ্যাটমিক এনার্জি করপোরেশনের (রোসাটম) কারিগরি সহযোগিতায় এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই কেন্দ্রে তৃতীয় প্রজন্মের দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে, যেগুলোর মাধ্যমে মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। এর আগে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের ইউরেনিয়াম জ্বালানির প্রথম চালান সফলভাবে দেশে এসে পৌঁছেছিল।























