টানা ভারী বৃষ্টিপাত, বন্যা এবং পাহাড়ি ধসে মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নেপালের জনজীবন। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশজুড়ে প্রায় ২৭২টি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে ৯৭টি ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় অন্তত ২১ জনের প্রাণহানি এবং ২৬ জন আহত হয়েছেন। এই আকস্মিক দুর্যোগের মুখে বিভিন্ন এলাকায় আটকে পড়া ৪১৫ জনকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করা হয়েছে এবং প্রায় ৭০০ জনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
চলমান এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই মানাং জেলার ৭ হাজার ১২৬ মিটার উচ্চতার হিমলুং হিমালে পর্বতারোহণের প্রস্তুতি নেওয়া শেরপা ও গাইডদের একটি বেস ক্যাম্পে ভয়াবহ তুষারধসের ঘটনা ঘটে। ২৬ জনের ওই দলের ক্যাম্প তুষারস্তূপে চাপা পড়ার পর এখন পর্যন্ত চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনও অন্তত ১২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। প্রবল তুষারপাত ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে দুর্গম ওই পাহাড়ি অঞ্চলে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে জরুরি সেবা কর্মী ও নিরাপত্তা বাহিনীকে চরম প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
প্রাকৃতিক এই তাণ্ডবের ফলে নেপালের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ও অর্থনীতিতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। দেশজুড়ে অন্তত ৪৮টি মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে; বিশেষ করে ত্রিশূলী নদীর তীব্র স্রোতের তোড়ে পাসাং লামু জাতীয় মহাসড়কের সংযোগ সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এর পাশাপাশি, চীনের সঙ্গে নেপালের তিনটি প্রধান স্থলবন্দর—রাসুয়াগাধি-কেরুং, তাতোপানি ও কোরালা সীমান্তপথে পণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সীমান্তজুড়ে শত শত পণ্যবাহী কনটেইনার আটকে থাকায় দেশের সামগ্রিক সরবরাহব্যবস্থায় তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, গত আগস্ট মাসের ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষত পুরোপুরি শুকানোর আগেই এই নতুন বিপর্যয় নেপালের পাহাড়ি জনপদগুলোকে আরও গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।























