ময়মনসিংহ অঞ্চলে কুকুর, বিড়াল, শিয়াল, বেজি ও বানরসহ বিভিন্ন প্রাণীর আক্রমণ এবং এর ফলে জলাতঙ্কের ঝুঁকি দিন দিন উদ্বেগজনকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। নগরের সূর্যকান্ত (এসকে) হাসপাতালে প্রতিদিন শতাধিক মানুষ জলাতঙ্কের টিকা ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে ভিড় করছেন। হাসপাতালটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত মাত্র আট মাসে প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ে আক্রান্ত হয়ে মোট ২০ হাজার ৭৩ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন, যার মধ্যে শুধু কুকুরের কামড়ের শিকার হয়েছেন ৭ হাজার ৫৬ জন। গত বছরের প্রথম আট মাসের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন হাজার বেশি বলে জানা গেছে।
আক্রান্তদের একটি বড় অংশই কোমলমতি শিশুরা, যা অভিভাবক ও চিকিৎসকদের গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে চিকিৎসাসেবা নেওয়া রোগীদের মধ্যে ৫ হাজার ৯৫৫ জনের বয়সই ১৫ বছরের নিচে। সাধারণ কুকুরের পাশাপাশি শহরাঞ্চল ও এর আশপাশে বানরসহ অন্যান্য বন্য বা stray প্রাণীর উপদ্রব এবং শিশুদের উত্ত্যক্ত করার কারণে কামড় খাওয়ার ঘটনা বাড়ছে। এসকে হাসপাতালের চিকিৎসকদের মতে, অসচেতনতা এবং ক্ষতস্থানে লবণ বা মরিচ পোড়ানোর মতো লোকজ কুসংস্কারের ওপর ভরসা করার প্রবণতা মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। কোনো প্রাণী কামড়ালে বা আঁচড় দিলে অবহেলা না করে দ্রুত ক্ষতস্থান সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ধুয়ে ফেলতে হবে এবং কালবিলম্ব না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সময়মতো টিকা নিতে হবে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসকে হাসপাতালে বর্তমানে কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিন ও র্যাবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন পর্যাপ্ত পরিমাণে সরবরাহ রয়েছে এবং কোনো সংকট নেই। তবে ময়মনসিংহ জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে যে, পূর্বে কুকুরকে টিকাদানের সরকারি কার্যক্রম চালু থাকলেও বর্তমানে তা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। জলাতঙ্কের ঝুঁকি কমাতে এবং প্রাণীর উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে এই টিকাদান কর্মসূচি পুনরায় চালুর জন্য সরকারের কাছে ইতোমধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল জলাতঙ্কের মতো মারাত্মক রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।


























