Dhaka ০৩:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

ময়মনসিংহে কুকুরসহ বিভিন্ন প্রাণীর আক্রমণে জলাতঙ্কের ঝুঁকি ও রোগীর ভিড় বৃদ্ধি

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৯:২৬:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩০ বার দেখা হয়েছে

ময়মনসিংহ অঞ্চলে কুকুর, বিড়াল, শিয়াল, বেজি ও বানরসহ বিভিন্ন প্রাণীর আক্রমণ এবং এর ফলে জলাতঙ্কের ঝুঁকি দিন দিন উদ্বেগজনকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। নগরের সূর্যকান্ত (এসকে) হাসপাতালে প্রতিদিন শতাধিক মানুষ জলাতঙ্কের টিকা ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে ভিড় করছেন। হাসপাতালটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত মাত্র আট মাসে প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ে আক্রান্ত হয়ে মোট ২০ হাজার ৭৩ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন, যার মধ্যে শুধু কুকুরের কামড়ের শিকার হয়েছেন ৭ হাজার ৫৬ জন। গত বছরের প্রথম আট মাসের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন হাজার বেশি বলে জানা গেছে।

আক্রান্তদের একটি বড় অংশই কোমলমতি শিশুরা, যা অভিভাবক ও চিকিৎসকদের গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে চিকিৎসাসেবা নেওয়া রোগীদের মধ্যে ৫ হাজার ৯৫৫ জনের বয়সই ১৫ বছরের নিচে। সাধারণ কুকুরের পাশাপাশি শহরাঞ্চল ও এর আশপাশে বানরসহ অন্যান্য বন্য বা stray প্রাণীর উপদ্রব এবং শিশুদের উত্ত্যক্ত করার কারণে কামড় খাওয়ার ঘটনা বাড়ছে। এসকে হাসপাতালের চিকিৎসকদের মতে, অসচেতনতা এবং ক্ষতস্থানে লবণ বা মরিচ পোড়ানোর মতো লোকজ কুসংস্কারের ওপর ভরসা করার প্রবণতা মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। কোনো প্রাণী কামড়ালে বা আঁচড় দিলে অবহেলা না করে দ্রুত ক্ষতস্থান সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ধুয়ে ফেলতে হবে এবং কালবিলম্ব না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সময়মতো টিকা নিতে হবে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসকে হাসপাতালে বর্তমানে কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিন ও র‍্যাবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন পর্যাপ্ত পরিমাণে সরবরাহ রয়েছে এবং কোনো সংকট নেই। তবে ময়মনসিংহ জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে যে, পূর্বে কুকুরকে টিকাদানের সরকারি কার্যক্রম চালু থাকলেও বর্তমানে তা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। জলাতঙ্কের ঝুঁকি কমাতে এবং প্রাণীর উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে এই টিকাদান কর্মসূচি পুনরায় চালুর জন্য সরকারের কাছে ইতোমধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল জলাতঙ্কের মতো মারাত্মক রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ময়মনসিংহে কুকুরসহ বিভিন্ন প্রাণীর আক্রমণে জলাতঙ্কের ঝুঁকি ও রোগীর ভিড় বৃদ্ধি

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৯:২৬:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ময়মনসিংহ অঞ্চলে কুকুর, বিড়াল, শিয়াল, বেজি ও বানরসহ বিভিন্ন প্রাণীর আক্রমণ এবং এর ফলে জলাতঙ্কের ঝুঁকি দিন দিন উদ্বেগজনকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। নগরের সূর্যকান্ত (এসকে) হাসপাতালে প্রতিদিন শতাধিক মানুষ জলাতঙ্কের টিকা ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে ভিড় করছেন। হাসপাতালটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত মাত্র আট মাসে প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ে আক্রান্ত হয়ে মোট ২০ হাজার ৭৩ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন, যার মধ্যে শুধু কুকুরের কামড়ের শিকার হয়েছেন ৭ হাজার ৫৬ জন। গত বছরের প্রথম আট মাসের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন হাজার বেশি বলে জানা গেছে।

আক্রান্তদের একটি বড় অংশই কোমলমতি শিশুরা, যা অভিভাবক ও চিকিৎসকদের গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে চিকিৎসাসেবা নেওয়া রোগীদের মধ্যে ৫ হাজার ৯৫৫ জনের বয়সই ১৫ বছরের নিচে। সাধারণ কুকুরের পাশাপাশি শহরাঞ্চল ও এর আশপাশে বানরসহ অন্যান্য বন্য বা stray প্রাণীর উপদ্রব এবং শিশুদের উত্ত্যক্ত করার কারণে কামড় খাওয়ার ঘটনা বাড়ছে। এসকে হাসপাতালের চিকিৎসকদের মতে, অসচেতনতা এবং ক্ষতস্থানে লবণ বা মরিচ পোড়ানোর মতো লোকজ কুসংস্কারের ওপর ভরসা করার প্রবণতা মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। কোনো প্রাণী কামড়ালে বা আঁচড় দিলে অবহেলা না করে দ্রুত ক্ষতস্থান সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ধুয়ে ফেলতে হবে এবং কালবিলম্ব না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সময়মতো টিকা নিতে হবে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসকে হাসপাতালে বর্তমানে কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিন ও র‍্যাবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন পর্যাপ্ত পরিমাণে সরবরাহ রয়েছে এবং কোনো সংকট নেই। তবে ময়মনসিংহ জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে যে, পূর্বে কুকুরকে টিকাদানের সরকারি কার্যক্রম চালু থাকলেও বর্তমানে তা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। জলাতঙ্কের ঝুঁকি কমাতে এবং প্রাণীর উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে এই টিকাদান কর্মসূচি পুনরায় চালুর জন্য সরকারের কাছে ইতোমধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল জলাতঙ্কের মতো মারাত্মক রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।