Dhaka ০৪:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

এসএসসির খাতা মূল্যায়নে দুর্বলতা: ব্যর্থ পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি শিক্ষামন্ত্রীর

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৮:১৮:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২২ বার দেখা হয়েছে

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়নে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করায় পরীক্ষকদের মূল্যায়নে গুরুতর দুর্বলতা ও ব্যর্থতা প্রমাণিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পূর্বে খাতা পুনর্মূল্যায়নের কোনো সুযোগ ছিল না; কেবল টেবুলেশন শিট থেকে নম্বর যোগ করা হতো। এবার আইনগতভাবে ১৯৮০ সালের অ্যাক্টের মধ্যে খাতা পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা সংযোজন করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, এবারের পুনর্মূল্যায়নের জন্য চার লাখ আবেদন জমা পড়েছিল। এর মধ্যে তত্ত্বীয় স্ক্রিপ্টের জন্য ১০ লাখ ৫৬ হাজার এবং ব্যবহারিক স্ক্রিপ্টের জন্য ২ লাখ ৩১ হাজার আবেদন ছিল। অর্থাৎ, মোট স্ক্রিপ্টের আবেদন ছিল ১২ লাখ ৮৭ হাজার, যা পাসের সংখ্যার চেয়েও বেশি।

এহছানুল হক মিলন আরও জানান, পুনর্মূল্যায়নের ফলে ২৭ হাজার ৮৩৬ জনের গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে এবং ৫৬ হাজার ২৫৯ জনের নম্বর পরিবর্তিত হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে।

তিনি বলেন, “প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী যারা ফেল করেছিল, পরে দেখা গেল যে তারা পাস করেছে। আর সবচেয়ে বড় সারপ্রাইজ হওয়ার বিষয়টি হলো—৩ হাজার ৭৯ জন জিপিএ-৫ বা এ প্লাস পেয়েছে। বিগত দিনগুলোতে এই ব্যবস্থাটি না থাকার কারণে কত ছাত্র-ছাত্রী তাদের সঠিক রেজাল্ট থেকে বঞ্চিত হয়েছে?” শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন, অনেক পরীক্ষার্থী আত্মহত্যা করে, যা লক্ষ্য করেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তিনি আশা করেন, এই ব্যবস্থার ফলে ভবিষ্যতে আর কেউ আত্মহত্যা করবে না।

শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, ভবিষ্যতে শিক্ষাব্যবস্থায় আরও কিছু নতুন চমক আসবে। তিনি বলেন, “আমরা দেখাতে পেরেছি যে, খাতা পুনর্মূল্যায়নের বিষয়ে আমাদের পরীক্ষকদের দুর্বলতা রয়েছে। এই খাতাগুলো আলাদা করে ফেলা হয়েছে এবং আরেকটি কমিটি করে এই মূল্যায়িত খাতাগুলোর কার কী কী দুর্বলতা রয়েছে, সেগুলো আমরা পুনর্মূল্যায়ন করে সেইভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করব।”

যারা এই মূল্যায়নে ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা আগামীতে সবাই জানতে পারবেন বলেও শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন। ইতোমধ্যে ব্যর্থ পরীক্ষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

এসএসসির খাতা মূল্যায়নে দুর্বলতা: ব্যর্থ পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি শিক্ষামন্ত্রীর

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৮:১৮:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়নে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করায় পরীক্ষকদের মূল্যায়নে গুরুতর দুর্বলতা ও ব্যর্থতা প্রমাণিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পূর্বে খাতা পুনর্মূল্যায়নের কোনো সুযোগ ছিল না; কেবল টেবুলেশন শিট থেকে নম্বর যোগ করা হতো। এবার আইনগতভাবে ১৯৮০ সালের অ্যাক্টের মধ্যে খাতা পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা সংযোজন করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, এবারের পুনর্মূল্যায়নের জন্য চার লাখ আবেদন জমা পড়েছিল। এর মধ্যে তত্ত্বীয় স্ক্রিপ্টের জন্য ১০ লাখ ৫৬ হাজার এবং ব্যবহারিক স্ক্রিপ্টের জন্য ২ লাখ ৩১ হাজার আবেদন ছিল। অর্থাৎ, মোট স্ক্রিপ্টের আবেদন ছিল ১২ লাখ ৮৭ হাজার, যা পাসের সংখ্যার চেয়েও বেশি।

এহছানুল হক মিলন আরও জানান, পুনর্মূল্যায়নের ফলে ২৭ হাজার ৮৩৬ জনের গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে এবং ৫৬ হাজার ২৫৯ জনের নম্বর পরিবর্তিত হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে।

তিনি বলেন, “প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী যারা ফেল করেছিল, পরে দেখা গেল যে তারা পাস করেছে। আর সবচেয়ে বড় সারপ্রাইজ হওয়ার বিষয়টি হলো—৩ হাজার ৭৯ জন জিপিএ-৫ বা এ প্লাস পেয়েছে। বিগত দিনগুলোতে এই ব্যবস্থাটি না থাকার কারণে কত ছাত্র-ছাত্রী তাদের সঠিক রেজাল্ট থেকে বঞ্চিত হয়েছে?” শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন, অনেক পরীক্ষার্থী আত্মহত্যা করে, যা লক্ষ্য করেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তিনি আশা করেন, এই ব্যবস্থার ফলে ভবিষ্যতে আর কেউ আত্মহত্যা করবে না।

শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, ভবিষ্যতে শিক্ষাব্যবস্থায় আরও কিছু নতুন চমক আসবে। তিনি বলেন, “আমরা দেখাতে পেরেছি যে, খাতা পুনর্মূল্যায়নের বিষয়ে আমাদের পরীক্ষকদের দুর্বলতা রয়েছে। এই খাতাগুলো আলাদা করে ফেলা হয়েছে এবং আরেকটি কমিটি করে এই মূল্যায়িত খাতাগুলোর কার কী কী দুর্বলতা রয়েছে, সেগুলো আমরা পুনর্মূল্যায়ন করে সেইভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করব।”

যারা এই মূল্যায়নে ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা আগামীতে সবাই জানতে পারবেন বলেও শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন। ইতোমধ্যে ব্যর্থ পরীক্ষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।