আজ ২৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তথ্যের অবাধ প্রবাহ, নাগরিকের তথ্য জানার অধিকার এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অত্যন্ত তাৎপর্যের সঙ্গে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এবারের দিবসের নির্ধারিত প্রতিপাদ্য হলো—‘ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য নিশ্চিতকরণ: অপতথ্য রোধে তথ্য অধিকারের ভূমিকা’। ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে তথ্যপ্রাপ্তি অনেকটাই সহজ হলেও বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভুল তথ্য, গুজব ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে, যা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সামগ্রিক সমাজে নানা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সরকারি কার্যক্রম, নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত, উন্নয়ন প্রকল্প ও জনসেবার বিষয়ে তথ্য সহজলভ্য হলে সাধারণ মানুষের পক্ষে যেকোনো গুজব ও অপতথ্য সহজেই যাচাই করার সুযোগ তৈরি হয়। তবে তথ্য অধিকার আইনকে পুরোপুরি কার্যকর করতে এবং আটকে থাকা বিভিন্ন আপিলের দ্রুত সুরাহা করতে তথ্য কমিশনকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি সেখানে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে সক্ষম যোগ্য ও নির্দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার ওপর জোরালো গুরুত্ব আরোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, নাগরিককে ক্ষমতায়িত করতে এই আইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পরিবর্তিত সময়ের সঙ্গে সংগতি রেখে আইনটিকে সংশোধন ও পরিমার্জন করাও একান্ত প্রয়োজন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক রাইসুল ইসলামও মনে করেন যে, কেবল আইন বা বিধিমালা প্রণয়ন করলেই যথেষ্ট নয়, এর সঠিক ও বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করাও সমানভাবে জরুরি। সরকারি কর্মকর্তাদের মানসিকতায় পরিবর্তন এনে তথ্যকে নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে হবে এবং অযৌক্তিক বিলম্ব বা তথ্য প্রদানে অনীহা দেখা দিলে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। পাশাপাশি, তথ্য প্রকাশের সার্বিক প্রক্রিয়া সহজ করা, তথ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং নাগরিকদের মধ্যে ডিজিটাল সাক্ষরতা ও গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা বাড়ানোর ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।























