Dhaka ০৮:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য সত্য জানার ‘অপরাধে’ মেজর জাহিদের নির্মম পরিণতি, স্ত্রীর ওপর নিপীড়নের বিভীষিকা

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০১:৩৯:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৭ বার দেখা হয়েছে

পিলখানায় সেনা কর্মকর্তাদের হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য সত্য জেনে ফেলাই কাল হয়েছিল সেনা কর্মকর্তা মেজর জাহিদুল ইসলামের। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে ২০১৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাতে এক সাজানো বন্দুকযুদ্ধে তাকে হত্যা করা হয়। এরপর দীর্ঘ আড়াই বছর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পড়েছিল তার লাশ। স্বজনরা কাছে থেকেও তার শেষ ঠিকানা কোথায়, তা জানতে পারেননি।

মেজর জাহিদকে (পরবর্তীতে মরণোত্তর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে উন্নীত) তুলে নেওয়ার রাতেই তার স্ত্রী জেবুন্নাহার শিলাকে কোলের শিশুসহ ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সেলে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। পোকায় ভরা নোংরা একটি ঘরে আট মাসের শিশুকে নিয়ে টানা দুদিন-দুরাত চেয়ারে বসেই কাটাতে বাধ্য করা হয় তাকে। তিনি চাদর টাঙিয়ে আড়াল করে নামাজে দাঁড়ালে সে চাদরও ফেলে দেওয়া হতো। আর তার ছয় বছরের শিশুকন্যাকে গণমাধ্যমের সামনে দাঁড় করিয়ে সাজানো হয়েছিল জঙ্গি নাটক।

গত ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকা সেনানিবাসের একটি বাসভবনে সম্প্রতি মরণোত্তর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিসেবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত শহীদ জাহিদের স্ত্রী জেবুন্নাহারের সঙ্গে কথা হয়। সাক্ষাৎকারে তিনি তার স্বামীর নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড, ডিবি সেলের ভেতরে অবর্ণনীয় কষ্ট আর দীর্ঘ আট বছর ধরে ‘জঙ্গি’ তকমা নিয়ে তার ওপর বয়ে যাওয়া ভয়ংকর ও নির্মম অতীতের দিনগুলোর কথা বর্ণনা করেন।

মেজর জাহিদ বিএমএ লং কোর্সে তৃতীয় স্থান অর্জন করে ‘ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ গোল্ড মেডেল’ লাভ করেছিলেন। তিনি সিলেটের ৫২ পদাতিক ব্রিগেডের বিএম (ব্রিগেড মেজর) হিসেবে প্রায় তিন বছর, স্কুল অব ইনফ্যান্ট্রি অ্যান্ড ট্যাকটিকসে (ট্যাকটিকস উইং) প্রায় তিন বছর এবং খাগড়াছড়ির ২০৩ ব্রিগেডে জিএসও-৩ হিসেবে প্রায় দুই বছর দায়িত্ব পালন করেন।

জেবুন্নাহার জানান, তার স্বামীর জীবনে অন্ধকার নেমে আসে ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর সদরদপ্তর পিলখানা ট্র্যাজেডির ঘটনায়। পিলখানা থেকে তার কোর্সমেট ও বন্ধু শহীদ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মাজহারুল হায়দার তাকে ফোন করে জানান, বিডিআরের পোশাকে হিন্দুভাষী কিছু অপরিচিত লোক অফিসারদের হত্যা করছে। সে সময় বগুড়া ক্যান্টনমেন্টে অবস্থানরত জাহিদ এ তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান।

এরপর থেকেই তাকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়। এছাড়া দাঁড়ি রাখায় এবং নিয়মিত মসজিদে নামাজ পড়ায় তাকে মানসিক নির্যাতনসহ বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা হতো। এমন পরিস্থিতিতে তিনি ২০১৫ সালের ২৮ জুলাই সামরিক বাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য সত্য জানার ‘অপরাধে’ মেজর জাহিদের নির্মম পরিণতি, স্ত্রীর ওপর নিপীড়নের বিভীষিকা

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০১:৩৯:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পিলখানায় সেনা কর্মকর্তাদের হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য সত্য জেনে ফেলাই কাল হয়েছিল সেনা কর্মকর্তা মেজর জাহিদুল ইসলামের। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে ২০১৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাতে এক সাজানো বন্দুকযুদ্ধে তাকে হত্যা করা হয়। এরপর দীর্ঘ আড়াই বছর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পড়েছিল তার লাশ। স্বজনরা কাছে থেকেও তার শেষ ঠিকানা কোথায়, তা জানতে পারেননি।

মেজর জাহিদকে (পরবর্তীতে মরণোত্তর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে উন্নীত) তুলে নেওয়ার রাতেই তার স্ত্রী জেবুন্নাহার শিলাকে কোলের শিশুসহ ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সেলে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। পোকায় ভরা নোংরা একটি ঘরে আট মাসের শিশুকে নিয়ে টানা দুদিন-দুরাত চেয়ারে বসেই কাটাতে বাধ্য করা হয় তাকে। তিনি চাদর টাঙিয়ে আড়াল করে নামাজে দাঁড়ালে সে চাদরও ফেলে দেওয়া হতো। আর তার ছয় বছরের শিশুকন্যাকে গণমাধ্যমের সামনে দাঁড় করিয়ে সাজানো হয়েছিল জঙ্গি নাটক।

গত ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকা সেনানিবাসের একটি বাসভবনে সম্প্রতি মরণোত্তর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিসেবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত শহীদ জাহিদের স্ত্রী জেবুন্নাহারের সঙ্গে কথা হয়। সাক্ষাৎকারে তিনি তার স্বামীর নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড, ডিবি সেলের ভেতরে অবর্ণনীয় কষ্ট আর দীর্ঘ আট বছর ধরে ‘জঙ্গি’ তকমা নিয়ে তার ওপর বয়ে যাওয়া ভয়ংকর ও নির্মম অতীতের দিনগুলোর কথা বর্ণনা করেন।

মেজর জাহিদ বিএমএ লং কোর্সে তৃতীয় স্থান অর্জন করে ‘ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ গোল্ড মেডেল’ লাভ করেছিলেন। তিনি সিলেটের ৫২ পদাতিক ব্রিগেডের বিএম (ব্রিগেড মেজর) হিসেবে প্রায় তিন বছর, স্কুল অব ইনফ্যান্ট্রি অ্যান্ড ট্যাকটিকসে (ট্যাকটিকস উইং) প্রায় তিন বছর এবং খাগড়াছড়ির ২০৩ ব্রিগেডে জিএসও-৩ হিসেবে প্রায় দুই বছর দায়িত্ব পালন করেন।

জেবুন্নাহার জানান, তার স্বামীর জীবনে অন্ধকার নেমে আসে ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর সদরদপ্তর পিলখানা ট্র্যাজেডির ঘটনায়। পিলখানা থেকে তার কোর্সমেট ও বন্ধু শহীদ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মাজহারুল হায়দার তাকে ফোন করে জানান, বিডিআরের পোশাকে হিন্দুভাষী কিছু অপরিচিত লোক অফিসারদের হত্যা করছে। সে সময় বগুড়া ক্যান্টনমেন্টে অবস্থানরত জাহিদ এ তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান।

এরপর থেকেই তাকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়। এছাড়া দাঁড়ি রাখায় এবং নিয়মিত মসজিদে নামাজ পড়ায় তাকে মানসিক নির্যাতনসহ বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা হতো। এমন পরিস্থিতিতে তিনি ২০১৫ সালের ২৮ জুলাই সামরিক বাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন।