বর্ষায় নদীর তীরবর্তী জনপদে বন্যা ও তীব্র ভাঙন এবং শুষ্ক মৌসুমে নাব্য সংকটের চিরচেনা রূপ বয়ে চলেছে পদ্মা নদী। ঋতুভেদে এই পরিবর্তন শুধু চরাঞ্চলের মানুষের জনজীবনকে বিপর্যস্তই করে না, বরং দেশের সামগ্রিক নদী ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকেও স্পষ্ট করে তোলে। ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব নদী দিবস পালনের প্রাক্কালে নদী রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে এসেছে। বিশেষ করে চলতি বছরের ডিসেম্বরে গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির দীর্ঘমেয়াদি মেয়াদ শেষ হতে চলায় শুষ্ক মৌসুমের পানির নায্য হিস্যা আদায় ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার বিষয়টি এখন অন্যতম জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাজশাহী অঞ্চলে পদ্মার সাম্প্রতিক পানিপ্রবাহ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং বহু মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। চরখিদিরপুর ও খানপুরসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা গবাদিপশু ও পরিবার নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। অথচ এর ঠিক কয়েক মাস পরেই শুষ্ক মৌসুমে নদী শুকিয়ে বিশাল বালুচরে পরিণত হয়, যা নৌ চলাচলকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করে। নদী গবেষকদের মতে, উজানে পানিপ্রবাহের স্বল্পতা, অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা এবং পল জমে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ সংকুচিত হওয়ার কারণে এই দ্বিমুখী সংকট তৈরি হচ্ছে।


























