Dhaka ০৩:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

ফারাক্কার প্রভাবে দক্ষিণ-পশ্চিমের নদী ভরাট হচ্ছে, সুন্দরবন হুমকিতে: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৭:৩১:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৫ বার দেখা হয়েছে

ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাবে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী ও খালগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি উল্লেখ করেন, উজান থেকে মিষ্টি পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় নিচ থেকে আসা পলি জমে শত শত খাল-বিল এবং প্রায় ৫৪টি নদী ভরাট হয়ে গেছে। একই সাথে এই অঞ্চলে লবণাক্ততা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

শনিবার বেলা ১১টায় খুলনার সোনাডাঙ্গার সোলার পার্কে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) ও বিকাশ লিমিটেডের যৌথ বনায়ন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি সুন্দরবন ও এ অঞ্চলের প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় ভারতকে বাংলাদেশের প্রাপ্য মিষ্টি পানির হিস্যা দিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

শেখ ফরিদুল ইসলাম আরও বলেন, কেবল আলোচনা বা কূটনৈতিক বক্তব্যে মিষ্টি পানির সংকটের সমাধান হবে না; ভারতের সঙ্গে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি সম্প্রতি ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকেও বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন বলে জানান। ওপর থেকে মিষ্টি পানি না এলে সাগরের লবণাক্ত পানি ও মিষ্টি পানির সংযোগস্থলে সুন্দরী গাছসহ সুন্দরবনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, মানুষের কিংবা কোনো দেশের হস্তক্ষেপে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হলে সুন্দরবন রক্ষা করা কঠিন হবে। এছাড়া, সুন্দরবনের পাশে থাকা লাল শ্রেণির শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর দূষণ নিয়ন্ত্রণেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সরকারের সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এরই মধ্যে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি গাছ লাগানো হয়েছে। আগামী ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে উপকূলীয় এলাকায় আরও ২ কোটি কেওড়ার চারা ও বীজ রোপণের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, কোন এলাকায় কোন গাছ লাগানো হবে তা নির্ধারণ করে সুষম বৃক্ষায়ন করা হবে। পাহাড়, সমতল, উপকূল, কৃষিজমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং এ কাজে এনজিওসহ বিভিন্ন সংগঠনকে যুক্ত করা হচ্ছে। বজ্রপাত মোকাবিলায় এ বছর যশোর, মাগুরা, নড়াইল, খুলনা ও সাতক্ষীরায় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার তালগাছ লাগানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাল, নারকেলসহ উঁচু গাছের সংখ্যা বাড়ানো গেলে বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে প্রতিমন্ত্রী মনে করেন। প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ বন্ধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করার কথাও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ফারাক্কার প্রভাবে দক্ষিণ-পশ্চিমের নদী ভরাট হচ্ছে, সুন্দরবন হুমকিতে: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৭:৩১:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাবে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী ও খালগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি উল্লেখ করেন, উজান থেকে মিষ্টি পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় নিচ থেকে আসা পলি জমে শত শত খাল-বিল এবং প্রায় ৫৪টি নদী ভরাট হয়ে গেছে। একই সাথে এই অঞ্চলে লবণাক্ততা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

শনিবার বেলা ১১টায় খুলনার সোনাডাঙ্গার সোলার পার্কে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) ও বিকাশ লিমিটেডের যৌথ বনায়ন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি সুন্দরবন ও এ অঞ্চলের প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় ভারতকে বাংলাদেশের প্রাপ্য মিষ্টি পানির হিস্যা দিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

শেখ ফরিদুল ইসলাম আরও বলেন, কেবল আলোচনা বা কূটনৈতিক বক্তব্যে মিষ্টি পানির সংকটের সমাধান হবে না; ভারতের সঙ্গে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি সম্প্রতি ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকেও বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন বলে জানান। ওপর থেকে মিষ্টি পানি না এলে সাগরের লবণাক্ত পানি ও মিষ্টি পানির সংযোগস্থলে সুন্দরী গাছসহ সুন্দরবনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, মানুষের কিংবা কোনো দেশের হস্তক্ষেপে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হলে সুন্দরবন রক্ষা করা কঠিন হবে। এছাড়া, সুন্দরবনের পাশে থাকা লাল শ্রেণির শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর দূষণ নিয়ন্ত্রণেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সরকারের সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এরই মধ্যে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি গাছ লাগানো হয়েছে। আগামী ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে উপকূলীয় এলাকায় আরও ২ কোটি কেওড়ার চারা ও বীজ রোপণের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, কোন এলাকায় কোন গাছ লাগানো হবে তা নির্ধারণ করে সুষম বৃক্ষায়ন করা হবে। পাহাড়, সমতল, উপকূল, কৃষিজমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং এ কাজে এনজিওসহ বিভিন্ন সংগঠনকে যুক্ত করা হচ্ছে। বজ্রপাত মোকাবিলায় এ বছর যশোর, মাগুরা, নড়াইল, খুলনা ও সাতক্ষীরায় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার তালগাছ লাগানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাল, নারকেলসহ উঁচু গাছের সংখ্যা বাড়ানো গেলে বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে প্রতিমন্ত্রী মনে করেন। প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ বন্ধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করার কথাও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।