গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ ও সাদুল্লাপুর উপজেলায় মানুষ ও গবাদিপশুকে আক্রমণ করা কুকুর এবং শেয়ালের দেহে প্রাণঘাতী র্যাবিস ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধীন ঢাকায় অবস্থিত সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরিতে (সিডিআইএল) নমুনা পরীক্ষা শেষে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নে একটি শেয়ালের কামড়ে চার শিশুসহ ৯ জন এবং দুটি গবাদিপশু আহত হয়। পরবর্তীতে সাদুল্লাপুর উপজেলার কামারপাড়া ইউনিয়নে ২১ সেপ্টেম্বর একটি কুকুরের আকস্মিক আক্রমণে গলার শ্বাসনালিতে মারাত্মক ক্ষত সৃষ্টি হয়ে সিনথিয়া নামের এক শিশুর মৃত্যু হয় এবং অপর এক যুবক আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা পরবর্তী সময়ে প্রাণী দুটিকে পিটিয়ে হত্যা করেন।
ঘটনার পরপরই ২১ সেপ্টেম্বর প্রাণী দুটির মাথার নমুনা সংগ্রহ করে বিস্তারিত ল্যাব গবেষণার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। একই সময় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব বিভাগের একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ দল উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শন করে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে। পরীক্ষাগারে বিস্তারিত অনুসন্ধানের পর প্রাণী দুটির শরীরে জলাতঙ্ক সৃষ্টিকারী র্যাবিস ভাইরাসের উপস্থিতি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুন্দরগঞ্জে শেয়ালের কামড়ে আহত ৯ জনকেই প্রথম দিনই র্যাবিস ভ্যাকসিন ও র্যাবিস ইমিউনোগ্লোবিউলিন (আরআইজি) প্রদান করা হয়েছে। আক্রান্তদের পরবর্তী নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী টিকার অবশিষ্ট ডোজসমূহ নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখা হয়েছে।

























