যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটার (ফেইসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মূল কোম্পানি) চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে ফেইসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলোর মূল প্রতিষ্ঠান মেটাকে বাংলাদেশে তাদের অফিস খোলার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বুধবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মনোনীত একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। মূলত সময় স্বল্পতার কারণে নির্ধারিত ওই বৈঠকে সরকারপ্রধান সরাসরি উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসার এবং ই-কমার্স খাতকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে মেটার প্রযুক্তি কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। দেশের ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বা এসএমই খাতের উন্নয়নে মেটার সহযোগিতা কামনা করা হয়।
বৈঠকে শুধু ব্যবসায়িক সম্প্রসারণই নয়, বরং দেশের সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল পরিবেশ সুরক্ষা নিয়েও জোরালো আলোচনা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বাংলাদেশে অনলাইন হয়রানি ও ডিজিটাল নিপীড়ন কঠোরহস্তে বন্ধ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন এবং সরকারের প্রস্তাবিত নতুন সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ নিয়েও মেটা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করেন। এছাড়া বাংলাদেশে মেটার প্ল্যাটফর্মগুলোর বিপুল সংখ্যক ব্যবহারকারীর কথা উল্লেখ করে ঢাকার সঙ্গে কোম্পানিটির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানানো হয়।
উক্ত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। সরকারের এই যুগোপযোগী উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।






















