আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ নানা জটিলতার মধ্যেও বর্তমান সরকার দেশের সাধারণ মানুষের কাছে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি ও গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে এবং সর্বোচ্চ সেবা পৌঁছানোর নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সারা দেশে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে তিনি বলেন, চরম বৈশ্বিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও সরকার অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করে যাচ্ছে। অথচ দেশের এই সংকটকালে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন না করে উল্টো সরকার ও বিএনপিকে লক্ষ্য করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।
‘সরকার এখনও হানিমুন মুডে আছে এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক’— বিরোধী দলগুলোর এমন মন্তব্যের জবাবে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের জনগণ অত্যন্ত সচেতন এবং তারা বর্তমান পরিস্থিতির বাস্তব সত্য ও সরকারের আন্তরিকতা অনুধাবন করতে সক্ষম। সরকার সব ধরনের সংকট মোকাবিলা এবং দেশের জাতীয় অর্থনীতি ও জনস্বার্থ সুরক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
বক্তব্যে তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী দেশ ভারতে অবস্থানরত বিগত শাসকদল আওয়ামী লীগের পলাতক নেতারা বাংলাদেশকে পুনরায় অস্থিতিশীল ও অশান্ত করার জন্য নানা ধরনের চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি দেশের অভ্যন্তরে থাকা তাঁদের অনুসারীরাও সেই চক্রান্ত বাস্তবায়নে গোপনে সহযোগিতা করছে। এ ধরনের পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।
জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত উক্ত সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সফু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান এবং ঢাকা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ শেষে রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে কাকরাইল ও নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে পুনরায় নয়াপল্টনে এসে শেষ হয়।






















