ইয়েমেনে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সহায়তা বা অংশগ্রহণ করলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানোর কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান পথ লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দাব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার যেকোনো চেষ্টা প্রতিহত করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এক সাক্ষাৎকারে হুথিদের সামরিক উপদেষ্টা আবেদ মোহাম্মদ আল-থাওর এসব তথ্য জানান।
আবেদ মোহাম্মদ আল-থাওর জানান, মার্কিন নৌবহর যদি ইয়েমেনের সংঘাতময় পরিস্থিতিতে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করে কিংবা বাব আল-মান্দাব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তাকে চরম সীমালঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হবে। এমন পরিস্থিতিতে ইয়েমেনি বাহিনী শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সৌদি আরবকে বিমান হামলা বা অন্য কোনো সামরিক সহায়তা প্রদান করে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন স্বার্থ ও স্থাপনাগুলোকে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সেই সঙ্গে মার্কিন জাহাজের জন্য কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালি দিয়ে চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি।
উল্লেখ্য, লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা বাব আল-মান্দাব বিশ্ব অর্থনীতির একটি অন্যতম প্রধান নৌপথ। এটি এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে এই প্রণালিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংঘাত নতুন করে তীব্র রূপ ধারণ করেছে। সৌদি বাহিনীর সঙ্গে হুথিদের লড়াইয়ের পাশাপাশি এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তবে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে হুথিদের সামরিক উপদেষ্টা জানান, ইরান তাদের মিত্র হলেও হুথিদের নীতি নির্ধারণে সরাসরি কোনো নির্দেশনা দেয় না এবং ইয়েমেনের সামরিক সিদ্ধান্তগুলো তারা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবেই নিয়ে থাকে।
সৌদি আরবের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে হুথিরা হুঁশিয়ারি দেয়, ইয়েমেনের জনসাধারণের ওপর হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো বন্ধ না হলে লৌহমুষ্টিতে তার জবাব দেওয়া হবে। ক্ষেত্রবিশেষে সৌদি আরবের তেল খাত ও সামগ্রিক অর্থনীতিকে স্তব্ধ করে দেওয়া এবং দেশটির অর্থনৈতিক অবকাঠামো শায়েস্তা করার মতো পর্যাপ্ত সামরিক সক্ষমতা হুথিদের রয়েছে।
অন্যদিকে, ইয়েমেনে অভিযান জোরদারের অংশ হিসেবে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে যে বাড়তি সামরিক সহায়তা চেয়েছিল, তা নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিকে জাতিসংঘের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের এই দীর্ঘায়িত সংঘাতের কারণে দেশটিতে নতুন করে গৃহহীন ও বাস্তুচ্যুত হওয়া মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে বেড়ে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ২ লাখ ৩০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার চরম মানবিক ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।























