দেশের সার্বিক জনস্বার্থ ও বিভিন্ন নিত্যনতুন সমস্যা নিয়ে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে নোটিশ প্রদান করা হলেও সরকার সেসব বিষয়ে আলোচনা এড়িয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বেলা সোয়া ১টার দিকে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াত বিট সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
দেশে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সংকট প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর থেকেই মূলত নতুন করে রাজনৈতিক জটিলতা শুরু হয়েছে। নির্বাচনের পর বিরোধী দল দুইটি ভিন্ন বিষয়ে শপথ গ্রহণ করলেও সরকার গ্রহণ করেছে কেবল একটি শপথ। সরকারের এই অনভিপ্রেত নীতি ও অবস্থানের কারণেই মূলত দেশে নতুন সংকটের জন্ম হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনের পূর্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জনগণকে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, নির্বাচনের পর তারা সেসব প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। বিশেষ করে বিএনপি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর শপথ গ্রহণ না করায় দেশে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অচল অবস্থা তৈরি হয়েছে।
দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক পরিবেশ পর্যালোচনা করে জামায়াত আমির জানান, বর্তমানে তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে নতুন বিদেশি বিনিয়োগ বাংলাদেশে না এসে অন্য দেশে স্থানান্তরিত হয়ে যাচ্ছে। সরকার নির্বাচনের আগে দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, বর্তমানে বাস্তবে তার সম্পূর্ণ বিপরীত ঘটনা ঘটছে। নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হওয়ার পরিবর্তে দেশজুড়ে উল্টো বেকারত্বের হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জাতীয় সংসদের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, বিরোধী দল জাতীয় সংসদে জনগুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তব্য তুলে ধরতে চাইলে নানা ধরনের প্রশাসনিক ও কৌশলগত সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। অন্যদিকে সংসদীয় কার্যক্রমে সরকারি দলের সদস্যদের বক্তব্য রাখার ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি সুযোগ ও অবাধ স্বাধীনতা দেওয়া হচ্ছে।






















