পুদিনাকে অনেকেই খাবারের প্লেটের সাধারণ একটি অনুষঙ্গ বা পানীয়ের স্বাদ বাড়ানোর উপাদান হিসেবে মনে করলেও এর স্বাস্থ্যগত উপকারিতা অত্যন্ত বিস্তৃত। প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসায় হজমের নানা গোলযোগ দূর করতে পুদিনা পাতা সফলভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এতে থাকা বিভিন্ন সুগন্ধি ও জৈব সক্রিয় উপাদান হজমতন্ত্রের কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষভাবে সাহায্য করে।
আকারে ছোট হলেও পুদিনা পুষ্টিগুণে ভরপুর। এতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’, যা দৃষ্টিশক্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি, এতে থাকা ভিটামিন ‘সি’ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। এছাড়া পুদিনা পাতায় অল্প পরিমাণে ফোলেট, ভিটামিন বি৬, আয়রন, ক্যালসিয়াম এবং ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট বা রোজম্যারিনিক অ্যাসিডের মতো উপকারী উপাদান বিদ্যমান রয়েছে।
পুদিনার শত শত প্রজাতির মধ্যে পেপারমিন্ট ও স্পিয়ারমিন্ট সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। পেপারমিন্টে মেন্থলের পরিমাণ বেশি থাকায় এর স্বাদ অত্যন্ত তীব্র ও ঝাঁজালো হয়, যা সাধারণত টুথপেস্ট, চুইংগাম ও হজমের ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, স্পিয়ারমিন্টের স্বাদ তুলনামূলক মৃদু ও মিষ্টি হওয়ায় এটি সালাদ এবং বিভিন্ন খাবারে সতেজ ভাব আনতে বেশি ব্যবহৃত হয়। নিয়মিত সুষম খাদ্যের সঙ্গে পুদিনা যুক্ত করলে খাবারের স্বাদ বৃদ্ধির পাশাপাশি অতিরিক্ত পুষ্টিও লাভ করা সম্ভব।


























