বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে সরকারি বরাদ্দের আওতায় বিনা মূল্যে ছয়টি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে আরও চারজন রোগীকে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী।
উপাচার্য বলেন, ‘বাংলাদেশে নিয়মিত লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে, গড়ে প্রতি মাসে দুটি করে অর্থাৎ বছরে ২৪টি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন করা। ২০২৭ সাল পর্যন্ত হয়তো আমরা সরকারের সহায়তা নিতে পারব।’
বিএমইউর তথ্য অনুযায়ী, ছয়টি ট্রান্সপ্ল্যান্টের মধ্যে দুটি হয়েছে ২০২৫ সালের ১ ও ২ সেপ্টেম্বর। বাকি চারটি সম্পন্ন হয়েছে চলতি বছরের ৩ ও ৪ জুলাই এবং ১১ ও ১২ সেপ্টেম্বর। বর্তমানে সব রোগীরই বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট ক্লিনিকের মাধ্যমে ফলোআপ চিকিৎসা চলছে।
উপাচার্য জানান, ২০১৯ ও ২০২৩ সালে বিএমইউতে একটি করে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা হলেও কার্যক্রমটি ধারাবাহিক ছিল না। তবে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে নতুন কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার পর নিয়মিতভাবে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী ১০ থেকে ১২ অক্টোবরের মধ্যে আরও দুটি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করার প্রস্তুতি চলছে। এর জন্য চারজন রোগী ইতোমধ্যে প্রস্তুত রয়েছেন।
লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের সম্ভাব্য ব্যয় নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী বলেন, প্রতিবেশী দেশে একটি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের ১৪ দিনের হাসপাতাল প্যাকেজের খরচ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪০ লাখ টাকা। এর বাইরে ডোনার ও রোগীর ভ্রমণ, দীর্ঘদিন হোটেলে থাকা, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং জটিলতা দেখা দিলে অতিরিক্ত আইসিইউ ব্যয়সহ মোট খরচ প্রায় ১ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আমরা হিসাব করে দেখেছি, নিয়মিতভাবে ট্রান্সপ্ল্যান্ট করতে পারলে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মধ্যেই একটি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এটি একটি প্রাথমিক বা রাফ এস্টিমেট।’
উপাচার্য উল্লেখ করেন, ‘একটা সময় আসবে, যখন আমাদের বিনা মূল্যে ট্রান্সপ্ল্যান্ট করাটা সম্ভব হবে না। আমরা হয়তো ২০২৭ সাল পর্যন্ত সরকারের সহায়তা পাব।’


























