দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে কড়া বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এই ব্রিফিংয়ে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন যে, দু-একটা ককটেল ফুটিয়ে বা নাশকতা চালিয়ে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের কোনো ধরনের ক্ষতি করা যাবে না। তিনি স্পষ্ট করে জানান যে সরকার কোনোভাবেই দেশের সাধারণ মানুষকে কষ্টে ফেলতে বা বড় ধরনের সংকটের মুখে ঠেলে দিতে চায় না, বরং বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই বিভিন্ন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামা এবং দেশের বাজারে দাম বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন যে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল এবং সামনে তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ডিজেল আমদানির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হতো উল্লেখ করে তিনি জানান, এই বিশাল লোকসান কমিয়ে আনার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এ সময় সরকারের পক্ষে সর্বোচ্চ কত পরিমাণ ভর্তুকি প্রদান করা সম্ভব, তা গভীরভাবে বিবেচনা করে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নীতি গ্রহণ করেছে সরকার।
সাবেক স্বৈরাচারী শাসনের সঙ্গে বর্তমান সরকারের তুলনা করার সমালোচকদের উদ্দেশে জাহেদ উর রহমান বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনার আমলে এমন সংকট তৈরি হলে তিনি নিজে তার পদত্যাগ দাবি করতেন, কারণ সেটির কোনো গণতান্ত্রিক বৈধতা ছিল না। কিন্তু বর্তমান সরকার একটি সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার, যা জনগণের প্রকৃত কষ্ট অনুধাবন করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ভারসাম্যের বিষয়টিও সমানভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। জনগণের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ এড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেই সরকার দেশ পরিচালনা করছে বলে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন নিউইয়র্ক সফর ও এর সূচি নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, আগামী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে এবং ২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা সংকটের সুনির্দিষ্ট আলোচনা ও কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি। এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ প্রদান শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর তিনি দেশের উদ্দেশে রওনা হবেন। তিনি আরও জানান যে, সানফ্রান্সিসকোতে মূলত দলীয় বা অন্য কোনো কর্মসূচি থাকার কথা ছিল, তবে দেশের বর্তমান সংকট ও সরকারি তহবিলের ব্যয় সাশ্রয়ের কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী তার এই সফর সংক্ষিপ্ত করার যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কম সময়ের এই সফরে রাষ্ট্রীয় খরচ যেমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, তেমনি দেশের এই বহুমুখী সংকটের সময়ে প্রধানমন্ত্রীর দেশে অবস্থান করাটাই বেশি অগ্রাধিকার পাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কর্তৃক বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার গুঞ্জন ও সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়েও কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, বোয়িং কেনার বিষয়টি মূলত প্রকাশিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আলোচনা হচ্ছে এবং এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে, তবে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে সুনির্দিষ্ট যতটুকু তথ্য রয়েছে, তার বাইরে অতিরিক্ত কিছু বলার সময় এখনো আসেনি। সার্বিক বিবেচনায় দেশ যখন নানা ধরনের বহুমাত্রিক সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে, তখন অস্থিতিশীল রাজনৈতিক অপতৎপরতা রুখে দিয়ে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ও জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বর্তমান সরকার।






















