Dhaka ০৭:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

অসাধু চক্রের ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও ঝুঁকিতে

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৯ বার দেখা হয়েছে

অসাধু চক্রের সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ও নানা অপতৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করা না হলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় গভীর সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) একটি অংশের নেতারা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার যৌথ প্রচেষ্টায় যখন পুনরায় কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম গতিশীল হচ্ছে, তখন কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ভুল তথ্য পরিবেশন, ভুয়া চাহিদাপত্র তৈরি এবং নানা ধরনের অপপ্রচারের মাধ্যমে এই সম্ভাবনাময় বাজারটিকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ায় নির্বাচিত ও বৈধ এজেন্সির মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে কর্মী প্রেরণের পক্ষে অবস্থান নেওয়া বায়রার এই অংশটি এমন উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরে।

শ্রমবাজার রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান বিশ্বাস সংবাদ সম্মেলনে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শ্রমিক পাঠানোর ওপর জোর দিয়ে বলেন যে, শুরুতে মাত্র ২৫টি লাইসেন্স অনুমোদনের কথা থাকলেও পরবর্তী আলোচনার মাধ্যমে সব যোগ্য ও সক্ষম লাইসেন্সধারীকে এফডব্লিউসিএমএসের আওতাভুক্ত করা হয়েছে। এটিকে কোনোভাবেই কোনো ধরনের সিন্ডিকেট হিসেবে অভিহিত করা চলে না, বরং আগ্রহী এবং শর্ত পূরণকারী সকল লাইসেন্স মালিকের জন্যই এই বাজার উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের ৩১ মে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন উৎস দেশ থেকে কর্মী নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করেছিল মালয়েশিয়া সরকার। তবে দীর্ঘ স্থবিরতা কাটিয়ে চলতি বছরের আগস্ট মাস থেকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দেশটির শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া আলোর মুখ দেখে। বর্তমান প্রক্রিয়ায় ২৫টি মূল এবং ৩১২টি সহযোগী রিক্রুটিং এজেন্সিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বায়রার সদস্যরা জোরালোভাবে দাবি করেন যে, এবারের কার্যক্রমে শুধুমাত্র সুনির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী এজেন্সিগুলোকেই সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এফডব্লিউসিএমএসের নির্ধারিত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য কোনো রিক্রুটিং এজেন্সির পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন করা হয়নি বলে তারা দাবি করেন। শুধুমাত্র নির্ধারিত মানদণ্ড, যোগ্যতা এবং শর্ত পালনের ভিত্তিতেই সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলো নির্বাচন করা হয়েছে। অতীতে ২০১৭-১৮ মেয়াদে মাত্র ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে এবং পরবর্তীতে ২০২২ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের ৩১ মে পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বোয়েসেলসহ ১০১টি মূল এবং ২৫০টি সহযোগী এজেন্সির মাধ্যমে প্রায় ৪ লাখ ৭৬ হাজার বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছিলেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

বাজারের পরিবেশ বিনষ্টকারী অসাধু চক্রের অপতৎপরতার কথা তুলে ধরে বায়রার সাবেক জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আব্দুল গফুর ভূঁইয়া বলেন যে, বাজারবিরোধীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কর্মী পাঠানো বাবদ ৬ থেকে ৮ লাখ টাকা ব্যয়ের কথা বলে জনমনে মারাত্মক বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি দারুণভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, যে সকল দেশ বিদেশি শ্রমিক গ্রহণ করে, তাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ আইন ও নীতিমালা কঠোরভাবে মেনে চলা বাধ্যতামূলক এবং সেই সার্বভৌম নিয়মের ওপর আমাদের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করার এখতিয়ার নেই।

বক্তাদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ অনুযায়ী, বিগত প্রক্রিয়ায় তালিকাভুক্ত হতে ব্যর্থ হওয়া কিছু বিপথগামী এজেন্সি এবং সুবিধাভোগী মধ্যস্বত্বভোগী চক্র নানা কর্মসূচি পালন, সংবাদ সম্মেলন আয়োজন এবং জনসমক্ষে অসত্য তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে নতুন করে শুরু হওয়া এই শ্রমবাজারকে বাধাগ্রস্ত করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয় যে, বাংলাদেশ থেকে পাঠানো মোট ৪২৩টি এজেন্সির তালিকা থেকে যাচাই-বাছাই শেষে মালয়েশিয়া সরকার কর্তৃক ২৫টি মূল এবং ৩১২টি সহযোগী এজেন্সিকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে এই অনুমোদিত মাধ্যমগুলোর সঙ্গেই কর্মী পাঠানোর সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়া সফলভাবে এগিয়ে চলেছে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

অসাধু চক্রের ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও ঝুঁকিতে

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অসাধু চক্রের সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ও নানা অপতৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করা না হলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় গভীর সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) একটি অংশের নেতারা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার যৌথ প্রচেষ্টায় যখন পুনরায় কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম গতিশীল হচ্ছে, তখন কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ভুল তথ্য পরিবেশন, ভুয়া চাহিদাপত্র তৈরি এবং নানা ধরনের অপপ্রচারের মাধ্যমে এই সম্ভাবনাময় বাজারটিকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ায় নির্বাচিত ও বৈধ এজেন্সির মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে কর্মী প্রেরণের পক্ষে অবস্থান নেওয়া বায়রার এই অংশটি এমন উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরে।

শ্রমবাজার রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান বিশ্বাস সংবাদ সম্মেলনে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শ্রমিক পাঠানোর ওপর জোর দিয়ে বলেন যে, শুরুতে মাত্র ২৫টি লাইসেন্স অনুমোদনের কথা থাকলেও পরবর্তী আলোচনার মাধ্যমে সব যোগ্য ও সক্ষম লাইসেন্সধারীকে এফডব্লিউসিএমএসের আওতাভুক্ত করা হয়েছে। এটিকে কোনোভাবেই কোনো ধরনের সিন্ডিকেট হিসেবে অভিহিত করা চলে না, বরং আগ্রহী এবং শর্ত পূরণকারী সকল লাইসেন্স মালিকের জন্যই এই বাজার উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের ৩১ মে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন উৎস দেশ থেকে কর্মী নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করেছিল মালয়েশিয়া সরকার। তবে দীর্ঘ স্থবিরতা কাটিয়ে চলতি বছরের আগস্ট মাস থেকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দেশটির শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া আলোর মুখ দেখে। বর্তমান প্রক্রিয়ায় ২৫টি মূল এবং ৩১২টি সহযোগী রিক্রুটিং এজেন্সিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বায়রার সদস্যরা জোরালোভাবে দাবি করেন যে, এবারের কার্যক্রমে শুধুমাত্র সুনির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী এজেন্সিগুলোকেই সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এফডব্লিউসিএমএসের নির্ধারিত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য কোনো রিক্রুটিং এজেন্সির পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন করা হয়নি বলে তারা দাবি করেন। শুধুমাত্র নির্ধারিত মানদণ্ড, যোগ্যতা এবং শর্ত পালনের ভিত্তিতেই সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলো নির্বাচন করা হয়েছে। অতীতে ২০১৭-১৮ মেয়াদে মাত্র ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে এবং পরবর্তীতে ২০২২ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের ৩১ মে পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বোয়েসেলসহ ১০১টি মূল এবং ২৫০টি সহযোগী এজেন্সির মাধ্যমে প্রায় ৪ লাখ ৭৬ হাজার বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছিলেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

বাজারের পরিবেশ বিনষ্টকারী অসাধু চক্রের অপতৎপরতার কথা তুলে ধরে বায়রার সাবেক জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আব্দুল গফুর ভূঁইয়া বলেন যে, বাজারবিরোধীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কর্মী পাঠানো বাবদ ৬ থেকে ৮ লাখ টাকা ব্যয়ের কথা বলে জনমনে মারাত্মক বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি দারুণভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, যে সকল দেশ বিদেশি শ্রমিক গ্রহণ করে, তাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ আইন ও নীতিমালা কঠোরভাবে মেনে চলা বাধ্যতামূলক এবং সেই সার্বভৌম নিয়মের ওপর আমাদের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করার এখতিয়ার নেই।

বক্তাদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ অনুযায়ী, বিগত প্রক্রিয়ায় তালিকাভুক্ত হতে ব্যর্থ হওয়া কিছু বিপথগামী এজেন্সি এবং সুবিধাভোগী মধ্যস্বত্বভোগী চক্র নানা কর্মসূচি পালন, সংবাদ সম্মেলন আয়োজন এবং জনসমক্ষে অসত্য তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে নতুন করে শুরু হওয়া এই শ্রমবাজারকে বাধাগ্রস্ত করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয় যে, বাংলাদেশ থেকে পাঠানো মোট ৪২৩টি এজেন্সির তালিকা থেকে যাচাই-বাছাই শেষে মালয়েশিয়া সরকার কর্তৃক ২৫টি মূল এবং ৩১২টি সহযোগী এজেন্সিকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে এই অনুমোদিত মাধ্যমগুলোর সঙ্গেই কর্মী পাঠানোর সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়া সফলভাবে এগিয়ে চলেছে।