বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তুরাগ ও বুড়িগঙ্গা নদীর বুকে আয়োজিত হয়েছিল গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচের এক জমকালো আসর। নদীর জলে বৈঠার ছন্দ আর দুই পাড়ের হাজারো মানুষের উল্লাসে মুখরিত হয়ে ওঠে রাজধানীর বছিলা এলাকা। একদিকে ছিল প্রতিযোগিতার রোমাঞ্চকর পরিবেশ, অন্যদিকে আয়োজকদের কণ্ঠে উচ্চারিত হয় মৌলবাদী শক্তির বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার জোরালো আহ্বান।
সোমবার দুপুরে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য প্রতিযোগিতায় মোট ছয়টি শক্তিশালী দল অংশ নেয়। হারিয়ে যাওয়া আবহমান বাংলার লোকসংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে রাজধানীর ব্যস্ততার মাঝেও এই আয়োজন ব্যাপক সাড়া ফেলে। প্রচণ্ড দাবদাহ উপেক্ষা করে তুরাগ ও বুড়িগঙ্গার দুই পাড়ে শিশু-কিশোরসহ সব বয়সের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রমাণ করে শেকড়ের সংস্কৃতির প্রতি বাঙালির টান এখনো গভীর।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, এ ধরনের নান্দনিক আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে পরিচিত করে তোলে। একই সঙ্গে মারাত্মক দূষণের শিকার বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদী রক্ষায় বর্তমান সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথাও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, নৌকা বাইচ বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা নাগরিক জীবনেও আনন্দের নতুন মাত্রা যোগ করে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী বলেন, রাজধানীতে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী এই নৌকা বাইচের আয়োজন মানুষের মনে গভীর রেখাপাত করেছে। পরিশেষে, সমাজের নানা অসংগতি ও মৌলবাদী অপতৎপরতা রুখতে সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে আরও বেগবান করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।






















