মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামের সম্মানিত মুয়াজ্জিন শেখ ইব্রাহিম আল মাদানি ইন্তেকাল করেছেন। সোমবার ভোররাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে বিশ্বজুড়ে ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সোমবার ফজরের আজানই ছিল মসজিদুল হারামে তার দেওয়া সর্বশেষ আজান, যা মুসলিম উম্মাহর স্মৃতিতে অমলিন হয়ে থাকবে। মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ভোররাতে শেখ ইব্রাহিম আল মাদানির আজান দেওয়ার একটি ভিডিও ফুটেজ ‘ইনসাইড দ্য হারামাইন’ প্রকাশ করে, যা তার ভক্ত ও অনুসারীদের কাছে গভীর আবেগ তৈরি করেছে।
সোমবার আসরের নামাজের পর মসজিদুল হারামে শেখ ইব্রাহিম আল মাদানির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তাকে আল-মুয়াল্লা কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
১৯৭৬ সালে মদিনায় জন্মগ্রহণকারী শেখ ইব্রাহিম আল মাদানি একটি গভীর ধর্মীয় পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। তার দাদার প্রভাব তার জীবনে ছিল অত্যন্ত গভীর, যিনি নিজেই একজন হাফেজ ছিলেন। পরবর্তীতে শেখ ইব্রাহিম কুরআন বিষয়ক অধ্যয়নে প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা অর্জন করেন।
মাত্র ১৫ বছর বয়সে মদিনার একটি স্থানীয় মসজিদে আজান দেওয়ার মধ্য দিয়ে মুয়াজ্জিন হিসেবে তার যাত্রা শুরু হয়। কলেজজীবন শেষ হওয়া পর্যন্ত তিনি স্থানীয় আরও তিনজন প্রতিবেশীর সঙ্গে পালাক্রমে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর মদিনার বাইরে শিক্ষকতার দায়িত্ব পালনের কারণে তিনি কিছু সময়ের জন্য এই কাজ থেকে বিরত ছিলেন।
১৪২৮ হিজরি সালে তাকে ‘মসজিদ আল-মাদদাহ’তে পুনরায় আজান দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেখানে তিনি মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাওয়ার আগ পর্যন্ত আজান দিয়েছেন। ১৪৩৯ হিজরি সালে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পবিত্র পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
মদিনায় বেড়ে ওঠার কারণে শেখ ইব্রাহিম আজান দেওয়ার ক্ষেত্রে মদিনার ঐতিহ্য ও শৈলী দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন। একইসঙ্গে বাবার সঙ্গে মক্কা সফরের সময় তিনি মক্কার স্বতন্ত্র আজানশৈলীর সঙ্গেও পরিচিত হন, যা তার আজানে এক বিশেষ মাধুর্য এনেছিল।


























