Dhaka ০২:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতালে নবনির্মিত ৪০ শয্যার আইসিইউ ইউনিট উদ্বোধন

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০২:১৫:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪০ বার দেখা হয়েছে

সরকারের বারো আনা বা বড় ধরনের সাফল্য অনেকাংশেই দেশের স্বাস্থ্য খাতের সার্বিক অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নবনির্মিত ৪০ শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ইউনিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি জানান, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং প্রান্তিক থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রধান হাসপাতালগুলোতে বাজেট ও বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং এ খাতে বাজেটের কোনো কমতি রাখা হয়নি। প্রান্তিক পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা আরও সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি ঘোষণা করেন যে, আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যায়ক্রমে ১০টি করে কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি, দেশের চিকিৎসকদের পেশাগত দক্ষতা ও মানোন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্নমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ৮৭০ শয্যার এই জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালটি উদ্বোধন করেছিলেন। দীর্ঘ ২১ বছর পর এই হাসপাতালে নতুন করে ৪০টি আইসিইউ বেড যুক্ত হওয়ায় গুরুতর অসুস্থ রোগীরা উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পাবেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি হাসপাতালে মোট শয্যার অন্তত ১০ শতাংশ আইসিইউ রাখার বাধ্যবাধকতার কথা তুলে ধরেন এবং দেশে আইসিইউর চরম সংকটের কথা উল্লেখ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, কেবল আইসিইউ স্থাপন করলেই হবে না, বরং দক্ষ জনবল নিশ্চিত না করা হলে মূল্যবান প্রযুক্তিগুলো ব্যবহারের আগেই নষ্ট হয়ে যাবে। এ সময় তিনি দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। ড্যাবের মহাসচিব ডা. মো. জহুরুল হক শাকিল বক্ষব্যাধি হাসপাতালে আইসিইউ চালুর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জাহিদ রায়হান জানান, সরকারি হাসপাতালে রোগী পরীক্ষার প্রাপ্ত ইউজার ফির একটি নির্দিষ্ট অংশ সরাসরি সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের সার্বিক উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হবে। অন্যদিকে, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. গোলাম সারওয়ার লিয়াকত হাসপাতালের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে জানান যে, এই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ১৫৬ জন চিকিৎসক ও ৪১০ জন নার্স কর্মরত থাকলেও বিপুলসংখ্যক রোগীর তুলনায় শয্যা ও আবাসন সংকট এবং চিকিৎসক, নার্স ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা জটিলতা দীর্ঘদিনের প্রধান সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতালে নবনির্মিত ৪০ শয্যার আইসিইউ ইউনিট উদ্বোধন

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০২:১৫:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারের বারো আনা বা বড় ধরনের সাফল্য অনেকাংশেই দেশের স্বাস্থ্য খাতের সার্বিক অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নবনির্মিত ৪০ শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ইউনিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি জানান, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং প্রান্তিক থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রধান হাসপাতালগুলোতে বাজেট ও বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং এ খাতে বাজেটের কোনো কমতি রাখা হয়নি। প্রান্তিক পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা আরও সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি ঘোষণা করেন যে, আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যায়ক্রমে ১০টি করে কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি, দেশের চিকিৎসকদের পেশাগত দক্ষতা ও মানোন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্নমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ৮৭০ শয্যার এই জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালটি উদ্বোধন করেছিলেন। দীর্ঘ ২১ বছর পর এই হাসপাতালে নতুন করে ৪০টি আইসিইউ বেড যুক্ত হওয়ায় গুরুতর অসুস্থ রোগীরা উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পাবেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি হাসপাতালে মোট শয্যার অন্তত ১০ শতাংশ আইসিইউ রাখার বাধ্যবাধকতার কথা তুলে ধরেন এবং দেশে আইসিইউর চরম সংকটের কথা উল্লেখ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, কেবল আইসিইউ স্থাপন করলেই হবে না, বরং দক্ষ জনবল নিশ্চিত না করা হলে মূল্যবান প্রযুক্তিগুলো ব্যবহারের আগেই নষ্ট হয়ে যাবে। এ সময় তিনি দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। ড্যাবের মহাসচিব ডা. মো. জহুরুল হক শাকিল বক্ষব্যাধি হাসপাতালে আইসিইউ চালুর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জাহিদ রায়হান জানান, সরকারি হাসপাতালে রোগী পরীক্ষার প্রাপ্ত ইউজার ফির একটি নির্দিষ্ট অংশ সরাসরি সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের সার্বিক উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হবে। অন্যদিকে, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. গোলাম সারওয়ার লিয়াকত হাসপাতালের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে জানান যে, এই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ১৫৬ জন চিকিৎসক ও ৪১০ জন নার্স কর্মরত থাকলেও বিপুলসংখ্যক রোগীর তুলনায় শয্যা ও আবাসন সংকট এবং চিকিৎসক, নার্স ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা জটিলতা দীর্ঘদিনের প্রধান সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে।