Dhaka ০২:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

চুক্তির সম্ভাবনার মাঝেই ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে সীমিত হামলা চালাল মার্কিন বাহিনী

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১১:২৩:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • ৪ বার দেখা হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের কৌশলগত কেশম দ্বীপে আজ মঙ্গলবার ভোরে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে সংবেদনশীল সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নির্দিষ্ট কিছু সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে সশস্ত্র হামলা পরিচালনা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন প্রতিরক্ষা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক সম্পদ ও জলযানের ওপর ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ইরানি বাহিনীকে লক্ষ্য করেই এই তথাকথিত ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হামলা চালানো হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এই আকস্মিক হামলার চাঞ্চল্যকর খবর প্রকাশের একই সময়ে তেহরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের চলমান বিরোধ নিরসনে কূটনৈতিক সমঝোতার বিষয়ে নতুন করে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর সুনির্দিষ্ট ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যকার পরোক্ষ আলোচনা ও দরকষাকষিতে দৃশ্যমান কিছু অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে এবং একটি পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছানোর জোরালো সম্ভাবনা এখনও রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে, তেহরানের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত একটি চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। তবে সাম্প্রতিক এই সামরিক হামলা এবং দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগের সামগ্রিক ভবিষ্যৎ এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

ইরান সরকারের পক্ষ থেকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশের সঙ্গে যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে উপনীত হওয়ার পূর্বে ওয়াশিংটনকে অবশ্যই ইরানের সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর থেকে একতরফা নৌ অবরোধ সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করতে হবে এবং তেহরানের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নিতে হবে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র যাতে এই চুক্তির সকল শর্ত অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলে—তার সুনির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তাও দাবি করছে ইরান। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ কাতারের সরাসরি মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যকার গোপন ও প্রকাশ্য কূটনৈতিক যোগাযোগ ও বার্তা আদান-প্রদান এখনও অব্যাহত রয়েছে। গত সপ্তাহে কাতারের বিশেষ মধ্যস্থতাকারীরা তেহরান সফর করে ইরানি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুই দফা রুদ্ধদ্বার বৈঠক সম্পন্ন করেছেন। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের পক্ষ থেকে সকল ধরনের হামলা বা বাধা প্রদান স্থায়ীভাবে বন্ধ করার প্রধান শর্তের বিনিময়ে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধ শিথিল বা তুলে নেওয়ার বিষয়টি বর্তমান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

এদিকে, বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালিতে আকস্মিক সমুদ্রের মাইনে আঘাত লেগে দুটি বড় অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারে ভয়াবহ আগুন ধরে গেছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তবে এই দাবির সত্যতা এখনও কোনো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক সূত্র থেকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এর আগে কাতারের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী (এলএনজি) বাণিজ্যিক জাহাজে রহস্যজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলো। অন্যদিকে, ওমান উপকূলের কাছাকাছি গভীর সাগরে আরও একটি অপরিচিত বাণিজ্যিক জাহাজে অজ্ঞাত বস্তু থেকে আঘাত হানার বড় খবর প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা ইউকেএমটিও। এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটির ডান পাশে মারাত্মক ছিদ্রের সৃষ্টি হলেও সৌভাগ্যবশত এর সকল নাবিক ও ক্রু সম্পূর্ণ নিরাপদে রয়েছেন।

অন্যদিকে হরমুজ প্রণালির আকাশসীমায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ ড্রোন এবং দুটি এমকিউএম-১৭০ যুদ্ধাকৃতির উড়োজাহাজ সফলভাবে ভূপাতিত করার চাঞ্চল্যকর দাবিও করেছে আইআরজিসি। তবে পেন্টাগন বা মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এই ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। সমসাময়িক এই ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই ইরানে নতুন করে সর্বাত্মক সামরিক হামলা চালানোর জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর প্রবল রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে চলেছেন বলে মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত বা একতরফা সিদ্ধান্তে আসেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

মধ্যপ্রাচ্যের এই সর্বগ্রাসী আঞ্চলিক উত্তেজনা দ্রুত প্রশমিত করতে অবিলম্বে সকল পক্ষকে সংযত হওয়ার এবং কার্যকর কূটনৈতিক সমাধানের পথ বেছে নেওয়ার জোর আহ্বান জানিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের প্রধান কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি শান্তিপূর্ণ সমঝোতা অর্জিত হবে বলেই তাঁর দেশ গভীর প্রত্যাশা করে, তবে যেকোনো ধরনের আকস্মিক ও সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্যও তারা সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। এছাড়া মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি অত্যন্ত জোরালোভাবে সতর্ক করে বলেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে তা গোটা অঞ্চলের জন্য আরও বেশি বিপজ্জনক ও ধ্বংসাত্মক পরিণতি ডেকে আনবে। বৈশ্বিক এই সংকট নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে চীন সরকারও আগাম পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি নভেম্বরের প্রথমার্ধের মধ্যেই ইরান, ওমান এবং সৌদি আরবে তাদের বিশেষ দূত পাঠানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে।

জনপ্রিয়

বিভাজনের রাজনীতি নয়, ঐক্য ও বাস্তবসম্মত সমাধান চায় মার্কিন জনগণ: বারাক ওবামা

চুক্তির সম্ভাবনার মাঝেই ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে সীমিত হামলা চালাল মার্কিন বাহিনী

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১১:২৩:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের কৌশলগত কেশম দ্বীপে আজ মঙ্গলবার ভোরে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে সংবেদনশীল সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নির্দিষ্ট কিছু সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে সশস্ত্র হামলা পরিচালনা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন প্রতিরক্ষা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক সম্পদ ও জলযানের ওপর ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ইরানি বাহিনীকে লক্ষ্য করেই এই তথাকথিত ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হামলা চালানো হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এই আকস্মিক হামলার চাঞ্চল্যকর খবর প্রকাশের একই সময়ে তেহরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের চলমান বিরোধ নিরসনে কূটনৈতিক সমঝোতার বিষয়ে নতুন করে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর সুনির্দিষ্ট ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যকার পরোক্ষ আলোচনা ও দরকষাকষিতে দৃশ্যমান কিছু অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে এবং একটি পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছানোর জোরালো সম্ভাবনা এখনও রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে, তেহরানের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত একটি চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। তবে সাম্প্রতিক এই সামরিক হামলা এবং দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগের সামগ্রিক ভবিষ্যৎ এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

ইরান সরকারের পক্ষ থেকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশের সঙ্গে যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে উপনীত হওয়ার পূর্বে ওয়াশিংটনকে অবশ্যই ইরানের সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর থেকে একতরফা নৌ অবরোধ সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করতে হবে এবং তেহরানের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নিতে হবে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র যাতে এই চুক্তির সকল শর্ত অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলে—তার সুনির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তাও দাবি করছে ইরান। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ কাতারের সরাসরি মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যকার গোপন ও প্রকাশ্য কূটনৈতিক যোগাযোগ ও বার্তা আদান-প্রদান এখনও অব্যাহত রয়েছে। গত সপ্তাহে কাতারের বিশেষ মধ্যস্থতাকারীরা তেহরান সফর করে ইরানি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুই দফা রুদ্ধদ্বার বৈঠক সম্পন্ন করেছেন। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের পক্ষ থেকে সকল ধরনের হামলা বা বাধা প্রদান স্থায়ীভাবে বন্ধ করার প্রধান শর্তের বিনিময়ে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধ শিথিল বা তুলে নেওয়ার বিষয়টি বর্তমান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

এদিকে, বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালিতে আকস্মিক সমুদ্রের মাইনে আঘাত লেগে দুটি বড় অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারে ভয়াবহ আগুন ধরে গেছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তবে এই দাবির সত্যতা এখনও কোনো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক সূত্র থেকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এর আগে কাতারের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী (এলএনজি) বাণিজ্যিক জাহাজে রহস্যজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলো। অন্যদিকে, ওমান উপকূলের কাছাকাছি গভীর সাগরে আরও একটি অপরিচিত বাণিজ্যিক জাহাজে অজ্ঞাত বস্তু থেকে আঘাত হানার বড় খবর প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা ইউকেএমটিও। এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটির ডান পাশে মারাত্মক ছিদ্রের সৃষ্টি হলেও সৌভাগ্যবশত এর সকল নাবিক ও ক্রু সম্পূর্ণ নিরাপদে রয়েছেন।

অন্যদিকে হরমুজ প্রণালির আকাশসীমায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ ড্রোন এবং দুটি এমকিউএম-১৭০ যুদ্ধাকৃতির উড়োজাহাজ সফলভাবে ভূপাতিত করার চাঞ্চল্যকর দাবিও করেছে আইআরজিসি। তবে পেন্টাগন বা মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এই ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। সমসাময়িক এই ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই ইরানে নতুন করে সর্বাত্মক সামরিক হামলা চালানোর জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর প্রবল রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে চলেছেন বলে মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত বা একতরফা সিদ্ধান্তে আসেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

মধ্যপ্রাচ্যের এই সর্বগ্রাসী আঞ্চলিক উত্তেজনা দ্রুত প্রশমিত করতে অবিলম্বে সকল পক্ষকে সংযত হওয়ার এবং কার্যকর কূটনৈতিক সমাধানের পথ বেছে নেওয়ার জোর আহ্বান জানিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের প্রধান কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি শান্তিপূর্ণ সমঝোতা অর্জিত হবে বলেই তাঁর দেশ গভীর প্রত্যাশা করে, তবে যেকোনো ধরনের আকস্মিক ও সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্যও তারা সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। এছাড়া মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি অত্যন্ত জোরালোভাবে সতর্ক করে বলেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে তা গোটা অঞ্চলের জন্য আরও বেশি বিপজ্জনক ও ধ্বংসাত্মক পরিণতি ডেকে আনবে। বৈশ্বিক এই সংকট নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে চীন সরকারও আগাম পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি নভেম্বরের প্রথমার্ধের মধ্যেই ইরান, ওমান এবং সৌদি আরবে তাদের বিশেষ দূত পাঠানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে।