Dhaka ০২:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনসমর্থনে বড় ধরনের ধস

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১১:২০:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • ৩ বার দেখা হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সার্বিক রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সর্বকালের সর্বনিম্ন অবস্থানের কাছাকাছি এসে ঠেকেছে। মার্কিন ভোটারদের একটি বিশাল অংশ এবারের এই নির্বাচনকে মূলত রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের বর্তমান নীতির প্রতি সরাসরি বিরোধিতার বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর একটি উপযুক্ত সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইপসোসের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত সমাপ্ত সোমবারের এক নতুন জনমত জরিপের ফলাফলে এই চিত্রটি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

সর্বশেষ প্রকাশিত জরিপ অনুসারে, মার্কিন কংগ্রেসে আগামী দিনে কোন রাজনৈতিক দলকে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিসেবে দেখতে চান—এমন সরাসরি প্রশ্নের জবাবে আনুমানিক ৪৬ শতাংশ ভোটার প্রধান বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির পক্ষে তাঁদের সুনির্দিষ্ট মত ব্যক্ত করেছেন। এর বিপরীতে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টিকে সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ৩৮ শতাংশ ভোটার। অর্থাৎ, জাতীয় জনমত জরিপের এই ‘জেনেরিক ব্যালট’ সূচকে ডেমোক্রেটরা বর্তমান ক্ষমতাসীনদের তুলনায় সুনির্দিষ্ট ৮ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছে।

অবশ্য রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা লক্ষ্য করেছেন যে, ডেমোক্রেটদের এই বর্তমান ব্যবধানটি গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কম। এর আগের সপ্তাহের জরিপের ফলাফলে রিপাবলিকানদের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে ছিল ডেমোক্রেটিক পার্টি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জেনেরিক ব্যালটের এই ফলগুলো জাতীয় পর্যায়ে মার্কিন ভোটারদের সাধারণ মানসিকতার একটি প্রাথমিক ধারণা প্রদান করলেও আমেরিকার অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় নির্বাচনী এলাকার জটিল রাজনৈতিক সমীকরণগুলো এতে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয় না।

বর্তমান কংগ্রেস নির্বাচনে নিজেদের দলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও আধিপত্য ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে লড়ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থীরা। উভয় দলের অভিজ্ঞ রাজনৈতিক কৌশলবিদদের মূল মূল্যায়ন অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের (হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কব্জায় নেওয়ার সবচেয়ে জোরালো ও ভালো সুযোগ রয়েছে ডেমোক্রেটদের সামনে। আজ মঙ্গলবার এই পরিষদের মোট ৪৩৫টি আসনের সব কটিতেই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে এর বিপরীতে উচ্চকক্ষ সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার বা ধরে রাখার লড়াইয়ে ডেমোক্রেটদের পথ আরও অনেক বেশি বন্ধুর ও কঠিন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আলাস্কা ও মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্রেটিক প্রার্থীরা কঠিন রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছেন।

যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কোনো ব্যালটের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন না, তবুও সার্বিক নির্বাচনী প্রচারে তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব ও ব্যক্তিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করছে। সদ্য সমাপ্ত এই জরিপে অংশ নেওয়া মাত্র ৩২ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন যে, হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান কাজের ধরনের প্রতি তারা সন্তুষ্ট। গত এক সপ্তাহ ধরে এই সমর্থনের হার একই অবস্থানে রয়েছে। তবে এর ঠিক দুই সপ্তাহ আগে তাঁর জনপ্রিয়তা নাটকীয়ভাবে নেমে ৩১ শতাংশে ঠেকেছিল, যা জনমত জরিপের ইতিহাসে তাঁর এ যাবতকালের সর্বনিম্ন সমর্থনের সর্বনিম্ন রেকর্ড।

জরিপের উপাত্ত বিশ্লেಷণে দেখা যায়, নিবন্ধিত স্বতন্ত্র ভোটারদের প্রায় ৫০ শতাংশই স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, এবারের কংগ্রেসে তাঁদের ভোটটি মূলত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরোধিতায় যাবে। এর বিপরীতে মাত্র ১৩ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটার ট্রাম্পের পক্ষে নিজেদের ভোট যাওয়ার কথা বলেছেন। আর বাকি প্রায় ৩৩ শতাংশ ভোটার মনে করেন, তাদের ব্যক্তিগত ভোটদানের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কোনো ধরনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব নেই।

এদিকে মার্কিন নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও মুদ্রাস্ফীতি এবারের নির্বাচনে ভোটারদের কাছে সবচেয়ে বড় ও স্পর্শকাতর ইস্যু হয়ে উঠেছে। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৭৮ শতাংশ উত্তরদাতা স্বীকার করেছেন যে, ভোট দেওয়ার সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বিষয়টি ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ অথবা ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে কাজ করছে। এই অর্থনৈতিক সংকটের ইস্যুটি মোকাবিলায় কোন দল ভালো করতে পারবে—এমন প্রশ্নে ডেমোক্রেটদের পক্ষে আস্থা প্রকাশ করেছেন ৪৩ শতাংশ ভোটার, যেখানে রিপাবলিকানদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ৩২ শতাংশ।

অপরদিকে আসন্ন নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সার্বিক প্রক্রিয়ায় ডেমোক্রেটিক দলের ভোটারদের মাঝে উদ্দীপনা ও উৎসাহ তুলনামূলকভাবে অনেকটাই বেশি লক্ষ করা গেছে। রয়টার্স-ইপসোসের জরিপে প্রায় ৪৯ শতাংশ ডেমোক্রেট ভোটার জানিয়েছেন যে, এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে তারা ‘খুবই উৎসাহী’। এর বিপরীতে রিপাবলিকান ভোটারদের মাঝে ভোটদানে এমন প্রবল আগ্রহের হার মাত্র ৩৩ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, রয়টার্স-ইপসোসের এই সর্বশেষ জরিপে অনলাইন পদ্ধতির মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলের মোট ১ হাজার ৭৬৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের মতামত নেওয়া হয়েছে। জরিপের সামগ্রিক ফলাফল স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার চরম ব্যয়বৃদ্ধি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অসন্তোষ এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নাটকীয় ভূমিকা রাখতে পারে।

জনপ্রিয়

বিভাজনের রাজনীতি নয়, ঐক্য ও বাস্তবসম্মত সমাধান চায় মার্কিন জনগণ: বারাক ওবামা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনসমর্থনে বড় ধরনের ধস

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১১:২০:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সার্বিক রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সর্বকালের সর্বনিম্ন অবস্থানের কাছাকাছি এসে ঠেকেছে। মার্কিন ভোটারদের একটি বিশাল অংশ এবারের এই নির্বাচনকে মূলত রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের বর্তমান নীতির প্রতি সরাসরি বিরোধিতার বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর একটি উপযুক্ত সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইপসোসের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত সমাপ্ত সোমবারের এক নতুন জনমত জরিপের ফলাফলে এই চিত্রটি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

সর্বশেষ প্রকাশিত জরিপ অনুসারে, মার্কিন কংগ্রেসে আগামী দিনে কোন রাজনৈতিক দলকে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিসেবে দেখতে চান—এমন সরাসরি প্রশ্নের জবাবে আনুমানিক ৪৬ শতাংশ ভোটার প্রধান বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির পক্ষে তাঁদের সুনির্দিষ্ট মত ব্যক্ত করেছেন। এর বিপরীতে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টিকে সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ৩৮ শতাংশ ভোটার। অর্থাৎ, জাতীয় জনমত জরিপের এই ‘জেনেরিক ব্যালট’ সূচকে ডেমোক্রেটরা বর্তমান ক্ষমতাসীনদের তুলনায় সুনির্দিষ্ট ৮ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছে।

অবশ্য রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা লক্ষ্য করেছেন যে, ডেমোক্রেটদের এই বর্তমান ব্যবধানটি গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কম। এর আগের সপ্তাহের জরিপের ফলাফলে রিপাবলিকানদের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে ছিল ডেমোক্রেটিক পার্টি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জেনেরিক ব্যালটের এই ফলগুলো জাতীয় পর্যায়ে মার্কিন ভোটারদের সাধারণ মানসিকতার একটি প্রাথমিক ধারণা প্রদান করলেও আমেরিকার অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় নির্বাচনী এলাকার জটিল রাজনৈতিক সমীকরণগুলো এতে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয় না।

বর্তমান কংগ্রেস নির্বাচনে নিজেদের দলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও আধিপত্য ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে লড়ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থীরা। উভয় দলের অভিজ্ঞ রাজনৈতিক কৌশলবিদদের মূল মূল্যায়ন অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের (হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কব্জায় নেওয়ার সবচেয়ে জোরালো ও ভালো সুযোগ রয়েছে ডেমোক্রেটদের সামনে। আজ মঙ্গলবার এই পরিষদের মোট ৪৩৫টি আসনের সব কটিতেই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে এর বিপরীতে উচ্চকক্ষ সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার বা ধরে রাখার লড়াইয়ে ডেমোক্রেটদের পথ আরও অনেক বেশি বন্ধুর ও কঠিন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আলাস্কা ও মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্রেটিক প্রার্থীরা কঠিন রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছেন।

যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কোনো ব্যালটের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন না, তবুও সার্বিক নির্বাচনী প্রচারে তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব ও ব্যক্তিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করছে। সদ্য সমাপ্ত এই জরিপে অংশ নেওয়া মাত্র ৩২ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন যে, হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান কাজের ধরনের প্রতি তারা সন্তুষ্ট। গত এক সপ্তাহ ধরে এই সমর্থনের হার একই অবস্থানে রয়েছে। তবে এর ঠিক দুই সপ্তাহ আগে তাঁর জনপ্রিয়তা নাটকীয়ভাবে নেমে ৩১ শতাংশে ঠেকেছিল, যা জনমত জরিপের ইতিহাসে তাঁর এ যাবতকালের সর্বনিম্ন সমর্থনের সর্বনিম্ন রেকর্ড।

জরিপের উপাত্ত বিশ্লেಷণে দেখা যায়, নিবন্ধিত স্বতন্ত্র ভোটারদের প্রায় ৫০ শতাংশই স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, এবারের কংগ্রেসে তাঁদের ভোটটি মূলত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরোধিতায় যাবে। এর বিপরীতে মাত্র ১৩ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটার ট্রাম্পের পক্ষে নিজেদের ভোট যাওয়ার কথা বলেছেন। আর বাকি প্রায় ৩৩ শতাংশ ভোটার মনে করেন, তাদের ব্যক্তিগত ভোটদানের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কোনো ধরনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব নেই।

এদিকে মার্কিন নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও মুদ্রাস্ফীতি এবারের নির্বাচনে ভোটারদের কাছে সবচেয়ে বড় ও স্পর্শকাতর ইস্যু হয়ে উঠেছে। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৭৮ শতাংশ উত্তরদাতা স্বীকার করেছেন যে, ভোট দেওয়ার সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বিষয়টি ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ অথবা ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে কাজ করছে। এই অর্থনৈতিক সংকটের ইস্যুটি মোকাবিলায় কোন দল ভালো করতে পারবে—এমন প্রশ্নে ডেমোক্রেটদের পক্ষে আস্থা প্রকাশ করেছেন ৪৩ শতাংশ ভোটার, যেখানে রিপাবলিকানদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ৩২ শতাংশ।

অপরদিকে আসন্ন নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সার্বিক প্রক্রিয়ায় ডেমোক্রেটিক দলের ভোটারদের মাঝে উদ্দীপনা ও উৎসাহ তুলনামূলকভাবে অনেকটাই বেশি লক্ষ করা গেছে। রয়টার্স-ইপসোসের জরিপে প্রায় ৪৯ শতাংশ ডেমোক্রেট ভোটার জানিয়েছেন যে, এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে তারা ‘খুবই উৎসাহী’। এর বিপরীতে রিপাবলিকান ভোটারদের মাঝে ভোটদানে এমন প্রবল আগ্রহের হার মাত্র ৩৩ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, রয়টার্স-ইপসোসের এই সর্বশেষ জরিপে অনলাইন পদ্ধতির মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলের মোট ১ হাজার ৭৬৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের মতামত নেওয়া হয়েছে। জরিপের সামগ্রিক ফলাফল স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার চরম ব্যয়বৃদ্ধি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অসন্তোষ এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নাটকীয় ভূমিকা রাখতে পারে।