প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন মন্তব্য করেছেন যে, জামায়াতে ইসলামী একটি শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে মূলত আওয়ামী লীগের পথেই হাঁটছে। সোমবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডি থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বিএনপি সরকারকে একই সঙ্গে দুটি ভিন্ন রাজনৈতিক দলের অপতৎপরতা মোকাবেলা করে দেশ পরিচালনা করতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফরকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা এবং দেশের মাটিতে বাস-ট্রেনে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টির তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
নির্বাচনোত্তর জাতীয় সংসদে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্যদের দুর্বল কার্যক্ষমতা ও পারফরম্যান্সের কারণে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ও সাধারণ মানুষের মাঝে তাদের একটি কার্যকর বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে এনসিপির জামায়াতে বিলীন হওয়ার ফলে তাদের স্বাধীনভাবে শক্তিশালী বিরোধী দল হয়ে ওঠার সম্ভাবনা আগেই ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা অনুযায়ী, জামায়াত নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে রাজপথ উত্তপ্ত করার কৌশল বেছে নিয়েছে, অন্যদিকে আওয়ামী লীগ জামায়াতের এই সংসদীয় দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে পুনর্বাসিত হওয়ার পথ খুঁজছে।
পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয় যে, যেখানে আওয়ামী লীগের এহেন ধ্বংসাত্মক ও অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড সম্মিলিতভাবে মোকাবেলা করার কথা ছিল, সেখানে জামায়াত এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব ও রহস্যজনক ভূমিকা পালন করছে। জামায়াতের এই নীরবতা দেখে অনেকের মনেই ১৯৯৬ সালের পুরোনো রাজনৈতিক সমীকরণ ও সম্পর্কের স্মৃতি জেগে উঠছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে এই রাজনৈতিক মেরুকরণের মাঝে নব্য রাজনৈতিক শক্তি এনসিপির প্রকৃত অবস্থান কী হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী।






















