গাজীপুর মহানগরীর নাওজোর এলাকার ফ্লাইওভারের ওপর দায়িত্বরত পুলিশের একটি গাড়িতে সরাসরি আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকরা।
আজ সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরের দিকে সর্বনিম্ন বেতন বৃদ্ধির এক দফা দাবিতে চলা তীব্র বিক্ষোভ ও অসন্তোষের মধ্যে এই সহিংস অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। এর পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের তীব্র ইটপাটকেলের আঘাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এক সদস্য আহত হয়েছেন। অন্যদিকে অগ্নিসংযোগের পর ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আগুন নেভাতে রওনা হলেও শ্রমিকদের বাধার মুখে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি।
চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিরন মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নাওজোর এলাকায় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে সকাল থেকেই পোশাকশ্রমিকরা সড়কজুড়ে প্রবল আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্দোলনের একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশের একটি টহল গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসকে দ্রুত খবর দেওয়া হলেও বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের শক্ত বাধার কারণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করতে পারেননি।
পুলিশ প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, আজ সোমবার সকাল থেকে গাজীপুর ও আশপাশের কোনাবাড়ী, মৌচাক, পল্লী বিদ্যুৎ, চন্দ্রা, ভোগড়া, নাওজোর এবং সাইনবোর্ডসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকরা একজোট হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে শুরু করেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত শ্রমিকরা কৌশলগতভাবে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে ফেলে। এরপর দুপুরে নাওজোর ফ্লাইওভারের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। একই সময়ে বিভিন্ন স্থানে যানবাহন ও দোকানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলেও একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে চন্দ্রা ও পল্লী বিদ্যুৎ সংলগ্ন এলাকায় সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও বিজিবির চৌকস দল নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আন্দোলন ও সড়ক অবরোধের ফলে আশপাশের মহাসড়ক ও বিভিন্ন ফিডার রোডে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে, যার ফলে সাধারণ যাত্রী ও নানা পেশার মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। উদ্ভূত এই শিল্প অসন্তোষ ও সহিংসতা দমনে পুরো গাজীপুর জেলাজুড়ে ইতোমধ্যে ১০ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন জানান, সকালেই গাজীপুরের বিভিন্ন পয়েন্টে শ্রমিকরা হঠাৎ কাজ ফেলে বিক্ষোভ শুরু করেন। এর মধ্যে কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়ে ভোগড়া এলাকার সড়ক থেকে শ্রমিকদের হটিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক আনতে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করছেন। সাধারণত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিতি বাড়ালে শ্রমিকরা সরে যান, তবে বাহিনী কিছুটা দূরে গেলেই তারা আবারও সংগঠিত হয়ে মহাসড়কে অবস্থান নিচ্ছেন।

























