দীর্ঘ সময় ধরে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় অবস্থান করলে নবগঠিত রাজনৈতিক দল এনসিপি চারাগাছ থেকে একসময় পরগাছায় পর্যবসিত হবে এবং ভবিষ্যতে কখনোই একটি শক্তপোক্ত বটবৃক্ষ হয়ে ওঠার সুযোগ পাবে না বলে কঠোর মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।
গত রবিবার (১ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১২টা ১২ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক সুদীর্ঘ ও তাৎপর্যপূর্ণ পোস্টে তিনি এই সমসাময়িক রাজনৈতিক মূল্যায়ন তুলে ধরেন।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান উল্লেখ করেন, “জনসভা থেকে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা সাদিক কায়েম যেভাবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখ ও সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম এবং আসিফ মাহমুদকে প্রকাশ্যে ‘বেইমান’ বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং উপস্থিত জামায়াতে ইসলামীর দলীয় নেতাকর্মীরা সমস্বরে ‘ঠিক’ বলে চিৎকার করে সেটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন—তার এই ঘটনার পর যদি নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদসহ এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ন্যূনতম মেরুদণ্ড বা গাটস থাকে, তবে এর তীব্র প্রতিবাদ ও প্রতিকার ছাড়া তাদের কোনোভাবেই জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের কোনো ধরনের বৈঠক কিংবা সমাবেশে অংশগ্রহণ করা উচিত নয়।”
তিনি আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, “আসলে এখন দেখার বিষয় হলো, জুলাইয়ের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী তরুণ প্রজন্মের সেই রাজনৈতিক শক্তিমত্তা ও আত্মমর্যাদা অবশিষ্ট আছে কি না, নাকি কেবল নামমাত্র ৮টি আসনের লোভে তারা নিজেদের পুরোপুরি জামায়াতের কাছে সঁপে দিয়েছে।”
এনসিপির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে রাশেদ খান তাঁর পোস্টে আরও লেখেন, “আমরা আন্তরিকভাবেই চেয়েছিলাম যে নবীন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে এনসিপি একটি চারাগাছ থেকে মহীরুহ বা বটবৃক্ষ হয়ে উঠুক। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে যদি তারা জামায়াতের ছায়াতলে থাকে, তবে এই চারাগাছ অচিরেই পরগাছায় পরিণত হবে, আর কখনো বটবৃক্ষ হওয়ার সুযোগ পাবে না। কিন্তু কেবল নামমাত্র ৮টি আসন পাওয়াকেই যদি তারা নিজেদের জীবনের সবচেয়ে বড় সুযোগ বা প্রাপ্তি বলে মনে করে থাকে, তবে মনে রাখা উচিত—এই সংখ্যা ভবিষ্যতে আর কখনো ৮০ হবে না, কিংবা ১৫০ প্লাসের ম্যাজিক ফিগারও স্পর্শ করতে পারবে না! এর পরিণতিতে এনসিপি শেষ পর্যন্ত আরেকটি খণ্ডবিখণ্ড ও বিলুপ্তপ্রায় জাসদে পরিণত হবে!”






















